Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় ইন্টারন্যাশনাল পিৎজা ডে (International Pizza Day 2026)। ইতালির একটি সাধারণ খাবার থেকে শুরু করে আজ পিৎজা হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিয় খাদ্যগুলোর একটি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হোক বা একা ঘরে বসে আরাম করে সময় কাটানো সব ক্ষেত্রেই পিৎজা যেন এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। এই দিনটি শুধুই একটি খাবার উদ্যাপনের নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের প্রতীক।

পিৎজার ইতিহাস ও উৎপত্তি (International Pizza Day 2026)
যদিও ইতালির নেপলস শহরকে আধুনিক পিৎজার জন্মস্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে পিৎজার ধারণা আরও অনেক পুরনো। খাদ্য ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন গ্রিস, রোম ও মিশর সভ্যতায় নানা ধরনের ফ্ল্যাটব্রেডের ওপর তেল, মসলা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া হত। এই ‘টপিং দেওয়া রুটি’-ই ধীরে ধীরে আধুনিক পিৎজার পূর্বসূরি হয়ে ওঠে।
সাধারণ মানুষের খাবার থেকে রাজকীয় স্বীকৃতি (International Pizza Day 2026)
১৬ শতকে নেপলসে যে পিৎজার প্রচলন শুরু হয়, তা ছিল মূলত শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের খাবার। দ্রুত তৈরি করা যায়, দাম কম এবং কাটাচামচ ছাড়াই খাওয়া সম্ভব এই কারণেই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে অভিজাত সমাজ এই খাবারকে গুরুত্ব দেয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। সাধারণ মানুষের খাবার হয়েও পিৎজা ধীরে ধীরে সব শ্রেণির মানুষের মন জয় করে নেয়।

রানী মার্গারিটার নামেই ‘পিজা মার্গারিটা’ (International Pizza Day 2026)
পিৎজার ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় কিংবদন্তিগুলোর একটি হল ১৮৮৯ সালে ইতালির রাজা উম্বের্তো প্রথম ও রানী মার্গারিটার নেপলস সফর। সেই সময় রাজপরিবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের পিৎজা বানানো হয়। এর মধ্যে রানীর সবচেয়ে পছন্দ হয় টমেটো সস, সবুজ তুলসি পাতা ও সাদা মোজারেলা চিজ দিয়ে তৈরি এক বিশেষ পিৎজা। ইতালির জাতীয় পতাকার রঙে তৈরি এই পিৎজার নামকরণ করা হয় ‘পিজা মার্গারিটা’, রানীর সম্মানেই। আজও এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পিৎজা।
আমেরিকায় পিৎজার উত্থান (International Pizza Day 2026)
দীর্ঘদিন ধরে পিৎজা মূলত ইতালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক ইতালীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সঙ্গে নিয়ে যান তাঁদের খাদ্যসংস্কৃতি। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে তাঁরা পিৎজা তৈরি করতে শুরু করেন। খুব দ্রুতই নিউ ইয়র্কে পিৎজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা আমেরিকায়।

নতুন রূপ (International Pizza Day 2026)
আমেরিকায় পিৎজার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় নানা আঞ্চলিক স্টাইল, নিউ ইয়র্ক স্টাইল পিৎজা (পাতলা ও বড় স্লাইস), শিকাগো ডিপ-ডিশ পিৎজা (গভীর ও চিজে ভরা), ডেট্রয়েট স্টাইল পিৎজা (চৌকো ও মোটা বেস) এই সব ভ্যারাইটি পরে ছড়িয়ে পড়ে কানাডা, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায়।
আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
বিশ্বজুড়ে পিৎজার জয়যাত্রা
আজ পিৎজা শুধুই ইতালীয় খাবার নয়, বরং একটি গ্লোবাল ফুড আইকন। গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০০-রও বেশি ধরনের পিৎজা তৈরি হয়। প্রতিটি দেশ ও অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী পিৎজার টপিং ও স্বাদে এসেছে ভিন্নতা—কোথাও ঝাল, কোথাও মিষ্টি, কোথাও আবার সামুদ্রিক স্বাদে ভরপুর।



