Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখ লাখ শিক্ষার্থী (International student)। সেই স্বপ্নপূরণের অন্যতম দরজা হচ্ছে মার্কিন স্টুডেন্ট (F ভিসা) ও এক্সচেঞ্জ (J ভিসা) প্রোগ্রাম। কিন্তু এবার সেই দরজার সামনে বড় কড়াকড়ি আনতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে বিদেশি পড়ুয়া, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আমেরিকায় থাকার মেয়াদ কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

‘ডিউরেশন অব স্টেটাস’ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে (International student)
এখন পর্যন্ত মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় “Duration of Status” নামে একটি সুবিধা ছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক পড়ুয়ারা যতদিন তাঁদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম চলত, ততদিন আইনত আমেরিকায় থাকতে পারতেন। অর্থাৎ, ডিগ্রি বা কোর্স যত দীর্ঘ হোক না কেন, শিক্ষার্থী সেই সময়সীমা পর্যন্ত থাকতেন। কিন্তু এবার এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর বদলে আসছে ফিক্সড ভিসা মেয়াদ।
- বিদেশি শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক ৪ বছর পর্যন্ত আমেরিকায় থাকতে পারবেন।
- বিদেশি সাংবাদিকরা (I ভিসা) সর্বাধিক ২৪০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন। প্রয়োজনে তাঁরা ভিসা বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
- চিনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর — তাঁদের জন্য সর্বাধিক মেয়াদ মাত্র ৯০ দিন।

নিয়ম ভাঙলে করণীয় (International student)
নতুন আইনে বলা হচ্ছে, ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শিক্ষার্থী বা সাংবাদিককে আমেরিকার Citizenship and Immigration Services (USCIS)-এ গিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আরও বিশদভাবে তথ্য যাচাই করতে পারবে। ফলে বিদেশিদের কার্যকলাপ ও অবস্থান সরকারের নজরদারির আওতায় আসবে।
যুক্তি ও প্রেক্ষাপট (International student)

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি—
- বহু বিদেশি পড়ুয়া ও সাংবাদিক এই “অনির্দিষ্ট মেয়াদ” নিয়মকে কাজে লাগিয়ে আজীবন মার্কিন মাটিতে থেকে যাচ্ছেন।
- এতে মার্কিন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
- বিদেশি শিক্ষার্থীরা করদাতাদের টাকায় ভর্তুকি পেয়ে পরোক্ষভাবে সুবিধা ভোগ করছেন, যা অন্যায্য।
- নতুন নিয়মে ফেডারেল সরকারের আর্থিক চাপও কমবে।

পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র (International student)
- অন্তত ১৬ লক্ষ আন্তর্জাতিক পড়ুয়া আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন।
- তাঁদের মধ্যে ৩ লক্ষের বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন।
- প্রায় ১৩ হাজার বিদেশি সাংবাদিক মার্কিন মাটিতে কাজ করছেন।
এদের অনেকেই নতুন ভিসা নিয়মের কারণে সরাসরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আশঙ্কা করছে, এই নিয়মে মেধাবী বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগমন হ্রাস পেতে পারে। ফলে গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে আমেরিকা পিছিয়ে পড়তে পারে।

অতীত অভিজ্ঞতা (International student)
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার এই প্রস্তাব আনে ২০২০ সালে। কিন্তু তখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিক মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, ২০২১ সালে জো বাইডেন সরকার এই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং পুনরায় “Duration of Status” ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির যুক্তি ছিল— ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদে পড়াশোনা ও গবেষণা শেষ করা সব সময় সম্ভব নয়। বিশেষত, পিএইচডি বা দীর্ঘ গবেষণা প্রকল্পের ক্ষেত্রে চার বছর সময় অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব

যদি ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব কার্যকর হয়,
- বিদেশি পড়ুয়াদের আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার আকর্ষণ কমবে।
- ভারত, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু পরিবার বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে।
- আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আন্তর্জাতিক ফি থেকে যে বিশাল অর্থ পায়, তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
- সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সংকোচ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন : India Pakistan Conflict : ভারত-পাকিস্তানকে পরমাণু যুদ্ধ থেকে ‘বাঁচিয়েছিলেন’, দাবি ট্রাম্পের
সুতরাং, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ শুধু ইমিগ্রেশন নীতির কঠোরতা নয়, বরং আমেরিকার শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়তো স্বল্পমেয়াদে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার “গ্লোবাল হাব” হওয়ার পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।



