Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের। আইপ্যাক তল্লাশি নিয়ে ইডির মামলায় ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট(IPAC SC)। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করারও নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।
আড়াই ঘণ্টা শুনানি সুপ্রিম কোর্টে (IPAC SC)
দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা শুনানি চলল সুপ্রিম কোর্টে। সকাল সাড়ে ১১টার কিছু আগে শুরু হয় শুনানি। দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতি। তার পরে আবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শুনানি চলে। আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানায় ইডি। অন্য দিকে ভোটের মুখে ইডির অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাজ্য।
কপিল সিব্বলের সওয়াল
শুনানি চলাকালীন কপিল সিব্বল বলেন আইপ্যাক-এর কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। ইডি জানত যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে। নির্বাচনের ঠিক মাঝখানে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? কয়লা পাচার মামলায় শেষ বয়ান নেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তারপর এতদিন ইডি কী করছিল? হঠাৎ করে নির্বাচনের সময় এত তৎপরতা কেন? ইডি ওই সব তথ্য নিলে আমরা নির্বাচন লড়ব কীভাবে? দলের চেয়ারম্যানের সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ছিল। যদি ভিডিয়ো দেখানো হয়, তবে কে মিথ্যে বলছে তা স্পষ্ট হবে।
সিব্বলের আরও সওয়াল
সিব্বল আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইডির নিজের তৈরি পঞ্চনামাতেই তা প্রমাণ হয়ে যায়, দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কিছুই বাজেয়াপ্ত হয়নি, তা পঞ্চনামাতেই লেখা আছে। এই ধরণের কথা বলা হচ্ছে শুধু আদালতের মনে পক্ষপাত তৈরির জন্য। মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি ল্যাপটপ, একটি আইফোন নিয়েছিলেন। তল্লাশির সময় কোনও বাধা তৈরি করা হয়নি।
সিব্বলের দাবি পরস্পরবিরোধী
সিব্বলের দাবি পরস্পরবিরোধী, কপিল সিব্বলের বক্তব্য শুনে বললেন বিচারপতি প্রশান্তচন্দ্র মিশ্র। বিচারপতি বলেন, যদি সত্যিই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকত, তবে ইডি বাজেয়াপ্ত করত। কিন্তু বাস্তবে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। সলিসিটর জেনারেলের কথামতো নির্বাচনের সময় যদি টাকা পাচার হয়, তা হলে ইডির দোষ কোথায়?
সলিসিটর জেনারেলের দাবি
সলিসিটর জেনারেল মেহতা অবশ্য বলেন,পশ্চিমবঙ্গে এখন কোনও নির্বাচন নেই। সিব্বল পাল্টা বলেন, যদি এটাই সলিসিটর জেনারেলের ধারণা হয়, তবে আর কী বলার থাকতে পারে। বিচারপতি প্রশান্তচন্দ্র মিশ্র বলেন,আসলে এখনও নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি. এটাই বোঝাতে চেয়েছেন। সিব্বলের বক্তব্য, সেখানে যা যা ঘটেছে, ইডির উচিত ছিল তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তদন্ত করতে বলা।
অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির সওয়াল
রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির সওয়াল, ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এসে মামলা করতে পারে শুধু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। যখন তাদের সামনে কার্যত আর কোনও উপায় থাকে না। এখন এই মামলার শুনানি হাইকোর্টে হওয়া উচিত। এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে। হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই প্রায় একই আবেদন করা হয়েছে। এখানে ফোরাম শপিং করা হয়েছে।
‘ইডির পঞ্চনামায় ভুল তথ্য’
বিচারপতি মিশ্র বলেন, শুনানিকে কেন্দ্র করে এই হাইকোর্টে এমন হয়, কাল অন্য কোনও হাইকোর্টেও এমন হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই হওয়া উচিত নয়। আমাদের সেই দিকটিও দেখতে হবে। আইনজীবী মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ইডির পঞ্চনামায় ভুল তথ্য আছে, না হলে ইডির পিটিশনে ভুল তথ্য আছে।
রাজ্যের আধিকারিকদের তল্লাশির বিষয়ে একবার জানানো হয়েছিল। খুবই সাধারণ ভাবে করা ইমেলের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
সওয়ালের বিরোধিতা ইডির আইনজীবীর
এই সওয়ালের বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল মেহতা বলেন, ইমেল কখনও ‘ক্যাজুয়াল’ বা গুরুত্বহীন হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।
রাজ্য ও ডিজিপির হয়ে সওয়াল
আইনজীবী সিঙ্ঘভির সওয়াল, তল্লাশি শুরু হয়েছিল ভোর ৬:৪৫-এ। ইমেল পাঠানো হয়েছিল তার অনেক পরে, সকাল ১১:৩০-এ। ইমেল পাঠানোটা ছিল আসলে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা। ইডি অফিসাররা অনেক দেরিতে নিজেদের পরিচয় দেন। রাজ্য ও ডিজিপির হয়ে সিঙ্ঘভি আরও বলেন, কিছু অচেনা লোক ওই জায়গায় ঢুকেছে এই খবর শুনে সেখানে গিয়েছিলেন ডিজিপি। মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত, এই ধরনের তথ্য পেলে ডিজিপির সেখানে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
মামলা একেবারেই ব্যতিক্রমী
ইডির আইনজীবী এসভি রাজু সওয়াল করেন, এই মামলা একেবারেই ব্যতিক্রমী কারণ, এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত। চুরির কাজটি মুখ্যমন্ত্রীই করেছেন। ঘটনা ঘটেছে পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির উপস্থিতিতে। পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এই ঘটনায় জড়িত। ঘটনার কোনও এফআইআর নথিভুক্ত হলেও, তা সঠিকভাবে তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
রাজ্য বনাম ইডির আইনি সংঘাত তুঙ্গে (IPAC SC)
মধ্যাহ্নবিরতির পরে ফের দুপুর ২টেয় বসে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজ্য বনাম ইডির আইনি সংঘাত তুঙ্গে ওঠে। উঠে আসে হাইকোর্টে গোলমালের প্রসঙ্গও। ইডির হয়ে সলিসিটর জেনারেল মেহতা সওয়াল করেন,ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাই তাঁরা আদালতের রক্ষাকবচ চাইছেন।
অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন (IPAC SC)
বিচারপতি জানান, এই মামলায় একটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের খতিয়ে দেখা জরুরি। কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। পিএমএলএ আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডির আধিকারিকেরা অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে, তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন। ইডির তদন্তে রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে কি? প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
কী কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের? (IPAC SC)
ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ। মামলায় সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষের কাছ থেকে হলফনামা তলব হয়েছে। এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।



