Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজস্থানের কাছে এক ম্যাচ হারের পর আবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে বিরাট জয় বেঙ্গালুরুর (IPL 2026)।
টানা হারের পর রোহিতের চোট নিয়ে বিপাকে মুম্বই (IPL 2026)
একদিকে কলকাতার অবস্থা যথেষ্ট খারাপ। চেন্নাইয়েরও একই অবস্থা ছিল টানা হারের মুখ দেখতে হচ্ছিল কিন্তু অবশেষে সঞ্জুর সঙ্গে জয়ের সরণিতে ফেরে চেন্নাই। আবার অন্যদিকে আইপিএল-এর অন্যতম সফল দল মুম্বই আর তাঁদেরও এবার অবস্থা শোচনীয়। পরপর তিন ম্যাচ হেরে হারের হ্যাটট্রিক করল রোহিত শর্মার দল। বেঙ্গালুরুর কাছে ১৮ রানের হারের পর আরও বড় ধাক্কা খেল মুম্বই। এই ম্যাচেই আবার চোট পেলেন রোহিত শর্মা। যা দলের জন্য চিন্তার কারণ (IPL 2026)।
এই ম্যাচে ২৪১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তে থাকে মুম্বইয়ের ব্যাটিং দুর্গ। একা কিছুটা লড়াই করেন শেরফান রাদারফোর্ড, সেই লড়াই দলকে কিছুটা ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে গেলেও বৈতরণী পার করাতে পারেনি। মুম্বই ৫ উইকেটে ২২২ রানে নিজেদের ইনিংস শেষ করে। এই ম্যাচেও দলকে ভরসা দিতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব। একদিকে মুম্বইয়ের এই করুণ পরিণতি আর অন্যদিকে রাজস্থানের বিরুদ্ধে হারের পর আবারও জয়ে ফিরল বিরাট কোহলির দল।

টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় মুম্বই। প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই ঝড় তোলে বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা। ওপেনে নেমে ফিল সল্ট এবং বিরাট কোহলি দলের জন্য যে শক্ত ভিত গড়ে দেন সেই ভিতের উপরেই জয়ের ইমারত তৈরি করে আরসিবি। এই দিনের ম্যাচে সল্ট শুরু থেকেই আগ্রাসী আর অন্যদিকে কোহলি কিছুটা ধীরস্থির (IPL 2026)।

৬টি চার এবং ৬টি চয়ের সৌজন্যে সল্ট করেন ৩৬ বলে ৭৮ রান। ব্যাট হাতে রীতিমত ঝড় তোলেন তিনি। সেই মুহূর্তে তিনি অন্যতম ভয়ঙ্কর। তাঁর স্ট্রাইক রেট ২১৬.৬৭। তবে বিরাট হাফ সেঞ্চুরি করলেও তাঁকে সেই আগ্রাসী ভূমিকায় পাওয়া যায়নি। বিরাট এই দিন ৩৮ বলে ৫০ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার এবং একটি ছয়। তবে বিরাটের ধীর গতির প্রভাব বেঙ্গালুরুর স্কোর বোর্ডে পড়েনি আর তার সৌজন্যে দলের অধিনায়ক রজত পতিদার (IPL 2026)।

সল্ট আউট হলে তিনি নামেন তিন নম্বরে ব্যাট অর্থে আর এসেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন। ম্যাচের অভিমুখ তিনি একা হাতে পাল্টে দেন। সল্ট আর বিরাটের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান কালবৈশাখীর গতিতে। মুম্বইয়ের বোলিং লাইন-আপকে ছন্নছাড়া করে দেন একাই রজত। ১৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন তিনি। তাঁর ২০ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি ছয় এবং ৪টি চার। তিন ডেভিডও ১৬ বলে ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ২০ ওভারের শেষে বেঙ্গালুরর রান ২৪০। মুম্বইয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর, হার্দিক পান্ডিয়া, মিচেল স্যান্টনার এবং ট্রেন্ট বোল্ট।

এত বড় রান তাড়া ককরতে নেমে মুম্বইয়ের কাছে সেই রান তখন পাহাড় প্রমাণ। ম্যাচ শুরু হতেই কঠিন হয়ে ওঠে। শুরুটা কিছুটা চেষ্টা করলেও রোহিত শর্মার চোট আরও চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়। ১৩ বলে ১৯ রান করে মাঠ ছাড়েন রোহিত। তাঁর চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি পরের ম্যাচে ফিরবেন কিনা এই নিয়ে চিন্তা বাড়তে থাকে আবার অন্যদিকে বিরাট কোহলিকেও ফিল্ডিং করতে দেখা যায়নি আর সেটাও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই ছবি যে যথেষ্ট চিন্তার এবং ভয়ের এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।
রোহিতের উঠে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রায়ান রিকেলটন। ২২ বলে ৩৭ রান করে ফিরে যান তিনি। সূর্যকুমার যাদবও হতাশ করেন। তিনি কবে আবার দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠবেন সেটা এখন বলা কঠিন। এরপর পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে ফেরেন তিলক ভর্মা। সেই সময় মুম্বই প্রায় পুরোপুরি ব্যাকফুটে (IPL 2026)।

আরও পড়ুন: US Iran Relations: চুক্তি ছাড়াই শেষ বৈঠক, তবুও কেন একে ‘সাফল্য’ বলছে পাকিস্তান?
খেলার হাল কিছুটা ধরেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শেরফান রাদারফোর্ড। হার্দিক ২২ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন আর তিনি আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুম্বইয়ের স্বপ্নও প্রায় শেষ হয়ে যায়। তবে যে ইনিংসের প্রশংসা না করলেই নয় সেটা হল রাদারফোর্ডের ৩১ বলে ৭১ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ রাখা হয়নি কারণ ততক্ষণে মুম্বই ম্যাচ থেকে অনেকটাই বেরিয়ে গেছে। তাঁর ৯টি ছয় এবং ১টি চারের সৌজন্যে মুম্বইয়ের ২২২ রান একমাত্র এই ম্যাচে মুম্বই সমর্থকদের প্রাপ্তি।
অবশেষে ১৮ রানে জয় পায় আরসিবি। বেঙ্গালুরুর হয়ে ২ উইকেট নিয়েছে সুয়াশ শর্মা। একটি করে উইকেট নিয়েছেন জ্যাকব ডাফি, রশিখ সালাম এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া (IPL 2026)।


