Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই দেশটির দক্ষিণে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি হামলার খবর সামনে এসেছে(Iran Attack)। ইরান ও রাশিয়া জানিয়েছে, একটি প্রজেক্টাইল কেন্দ্রের পাশের এলাকায় আঘাত হানে, তবে মূল স্থাপনা বা রিঅ্যাক্টরের কোনো ক্ষতি হয়নি। রেডিয়েশন মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সচল রিঅ্যাক্টরের কাছাকাছি আঘাত (Iran Attack)
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, আঘাতটি মেট্রোলজি সার্ভিস ভবনের কাছে লাগে, যা সচল রিঅ্যাক্টরের কাছাকাছি। এলাকার প্রায় ৪৮০ জন রুশ কর্মীর কেউ আহত হননি। প্রয়োজনে তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ধ্বংসাবশেষ থেকেও ক্ষতি
ঠিক কী ধরণের প্রজেক্টাইল ব্যবহৃত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ থেকেও এমন ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুশেহর ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এটি নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে, যা মূলত বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি (Iran Attack)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আঘাত লাগলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। কারণ এখানে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম কম সমৃদ্ধ এবং তেজস্ক্রিয়তার বিস্তার সীমিত।
পানীয় জলের উপরও প্রভাব (Iran Attack)
তবুও স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তেজস্ক্রিয় কণিকা শ্বাস বা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের কাছে অবস্থান হওয়ায় বড় ধরনের লিক হলে পানীয় জলের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই, তবে পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।



