Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তায়্যেবে প্রাইমারি স্কুলে বিধ্বংসী হামলার পর বিশ্বের অন্যতম উন্নত ক্রুজ মিসাইল টোমাহক আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে(Iran Attack)। ২৮ ফেব্রুয়ারির এই হামলায় প্রায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু।
ক্ষেপনাস্ত্র আঘাতের ভিডিয়ো (Iran Attack)
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর প্রকাশিত একটি ছোট ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত নেমে এসে ভবনে আঘাত হানছে। বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট ভিডিয়োটি বিশ্লেষণ করে জানায়, সেটিতে দেখা অস্ত্রটি সম্ভবত একটি টোমাহক ক্রুজ মিসাইল।
দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার অস্ত্র
টোমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল (TLAM) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার অস্ত্র। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এর উন্নয়ন শুরু হয় এবং বর্তমানে এর সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ ব্লক V, যার পাল্লা প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার। এটি জিপিএস ও উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
রানের কাছে টোমাহক থাকার প্রমাণ নেই
এই মিসাইল খুব সীমিত কয়েকটি দেশ ব্যবহার করে। প্রধান ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডস এর অপারেটর। কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের কাছে টোমাহক থাকার কোনও প্রমাণ নেই।
হামলাটি ইরান নিজেই করে থাকতে পারে (Iran Attack)
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলাটি ইরান নিজেই করে থাকতে পারে এবং দেশটির কাছে টোমাহক থাকতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, স্কুলটি একটি আইআরজিসি (IRGC) নৌ ঘাঁটির পাশে অবস্থিত ছিল। হামলায় স্কুলসহ অন্তত চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলা চালানোর কথা স্বীকার (Iran Attack)
যুক্তরাষ্ট্র মিনাবের কাছাকাছি এলাকায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে, তবে স্কুলে হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। একটি মার্কিন সূত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে, হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছিল। এদিকে ইউনেস্কো ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।



