Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুদ্ধ মানেই শুধু সীমান্তে গোলাগুলি নয়; তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও (Iran-Israel War)। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দেখা দিলেই প্রথম ধাক্কা লাগে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের বাজারে। আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার। বর্তমানে ইরান–ইজরায়েল সংঘাত এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহ সেই পুরনো আশঙ্কাকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। ভারতের উপর সরাসরি বোমা না পড়লেও, অর্থনৈতিক অভিঘাত যে পড়ছে তা স্পষ্ট। বিশেষ করে বাসমতী চাল রপ্তানিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

ভারতের সুগন্ধী অর্থনীতি (Iran-Israel War)
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাসমতী চাল উৎপাদক দেশ (Iran-Israel War)। দেশের মোট উৎপাদিত বাসমতী চালের প্রায় ৭২ শতাংশ রপ্তানি হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। এই বিশাল অংশের উপর নির্ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবিকা। সবচেয়ে বড় ক্রেতা দুই দেশ ইরান এবং সৌদি আরব। এই দেশগুলিতে বিরিয়ানি কেবল একটি খাবার নয়, বরং সংস্কৃতির অঙ্গ। আর সেই বিরিয়ানির প্রধান উপাদান ভারতীয় সুগন্ধী বাসমতী চাল। বিশেষত রমজান মাসে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মধ্যপ্রাচ্যে ৬০ লক্ষ টনের বেশি বাসমতী চাল রপ্তানি হয়েছে, যার ফলে দেশ প্রায় ৩৬,১৩৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই বিপুল অঙ্ক ভারতের কৃষিভিত্তিক রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্ব বোঝায়।
আশঙ্কার কালো মেঘ (Iran-Israel War)
কিন্তু আচমকা সংঘাত পরিস্থিতি রপ্তানি ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন অনিশ্চিত, ব্যাংকিং লেনদেনে জটিলতা, বীমা খরচ বৃদ্ধি সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগে। বিশেষ করে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক ব্যবসা ধারে বা ‘ক্রেডিট’ ব্যবস্থায় হওয়ায় সমস্যাটি আরও জটিল। আগে চাল পাঠানো হয়, পরে অর্থ আসে। ফলে ইতিমধ্যেই পাঠানো চালের দাম আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

লোকসানের আশঙ্কা (Iran-Israel War)
পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যে বহু কৃষক বাসমতী চাষের উপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে তাঁরা উচ্চমূল্যের বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগ করেন। এখন যদি রপ্তানি থমকে যায় বা আগাম বরাত বাতিল হয়, তবে তাঁদের সামনে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা। একজন রপ্তানিকারকের ভাষায়, “চাল পাঠানোর পর অনেক টাকাই এখনও পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।” এই পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকরা কেন্দ্রের সহায়তা চাইছেন।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
রপ্তানিকারকদের দাবি, কেন্দ্র সরকার যেন এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন-এর মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করে। এই সংস্থা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থ না-পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বীমা সুরক্ষা দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে কৃষক ও রপ্তানিকারক উভয়ের উপরই আর্থিক চাপ বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে উৎপাদন কমে যাওয়া, চাষের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ঘাটতির মাধ্যমে।



