Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে অন্যতম গভীর অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে শুরু হওয়া দেশজুড়ে বিক্ষোভ এখন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে(Iran Protest)। ডিসেম্বর ২৮ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে ইরানের সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ (Iran Protest)
মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভের সূচনা হয়। তবে খুব দ্রুতই তা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়। বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিপুল ব্যবসায়িক প্রভাব, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও উসকে দেয়।
১০ হাজারের বেশি গ্রেফতার
আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬০০টির বেশি বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের হিসাবে অন্তত ৬৪৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। এ ছাড়া ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারিভাবে নিহতের পূর্ণাঙ্গ কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ (Iran Protest)
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতদের মধ্যে নারী ও কিশোরও রয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘ইন্টারনেট কিল সুইচ’ (Iran Protest)
তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশজুড়ে ‘ইন্টারনেট কিল সুইচ’ চালু করেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। এর মধ্যেও কিছু ভিডিও ও ছবি ফাঁস হয়ে নিহতদের মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্য সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: Nipah Virus: কোন মাংসে নিপা ভাইরাসের ভয় বেশি? সংক্রমণ হলে নিস্তার নেই!
বিক্ষোভ ঘিরে টানাপোড়েন (Iran Protest)
ইরানি সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ ও সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই অস্থিরতায় বিশ্বের তেলবাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।



