Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার শিকড় ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে। সেই বিপ্লব কয়েক হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলে যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্বই সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র(Iran Supreme Leader)। এই ব্যবস্থার শীর্ষে সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা, যিনি সামরিক বাহিনী, বিচারব্যবস্থা ও প্রধান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন।
ইরানের তৃতীয় সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই (Iran Supreme Leader)
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের Assembly of Experts দ্রুত নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। তারা খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা খামেনেইকে দেশের তৃতীয় সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করেছে।
২৫০০ বছর ধরে ইরানে রাজতন্ত্র
বিপ্লবের আগে প্রায় ২৫০০ বছর ধরে ইরানে রাজতন্ত্র ছিল। শেষ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন এবং ১৯৬৩ সালে “হোয়াইট রেভোলিউশন” নামে সংস্কার কর্মসূচি চালু করেন। এতে ভূমি সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু একই সঙ্গে তার শাসন ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে এবং গোপন পুলিশ SAVAK বিরোধীদের দমন করতে শুরু করে।
ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়
এই পরিস্থিতিতে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনি শাহবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৪ সালে নির্বাসনে গেলেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৭৮ সালে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়। অবশেষে ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে শাহ দেশ ছেড়ে চলে গেলে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়।
সুপ্রিম লিডারের পদ সৃষ্টি (Iran Supreme Leader)
একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি খোমেনি নির্বাসন থেকে ইরানে ফিরে আসেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই রাজতন্ত্র ভেঙে ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন সংবিধানে Velayat-e Faqih বা “ইসলামি আইনজ্ঞের অভিভাবকত্ব” নীতির ভিত্তিতে সুপ্রিম লিডারের পদ সৃষ্টি করা হয়, যার হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ন্যস্ত।
আরও পড়ুন: Sensex and Nifty: যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে দালাল স্ট্রিট, পতন দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের
ধর্মীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব অটুট (Iran Supreme Leader)
১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনেই সুপ্রিম লিডার হন এবং দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকেন। এখন তার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেইয়ের নির্বাচন দেখিয়ে দিল ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ধর্মীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব এখনও অটুট।



