Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত পতনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ জনগণ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধেই রাস্তায় নেমেছে(Iran)। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশে বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে রিয়ালের মূল্য নেমে যায় (Iran)
গত ডিসেম্বরের মধ্যে রিয়ালের মূল্য নেমে যায় প্রতি ডলারে প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালে। এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। কিছু হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।
মানুষের আস্থার ভাঙার প্রতিফলন
২০২২–২৩ সালের মাহসা আমিনিকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের তুলনায় এবারের বিক্ষোভে তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি হলেও সব বয়স ও শ্রেণির মানুষ এতে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষোভ নয়, বরং সরকারের উপর মানুষের আস্থার ভাঙার প্রতিফলন।
‘ডিক্টেটরের মৃত্যু হোক’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ৮ জানুয়ারি রাতে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে প্রায় ৮ কোটি মানুষ কার্যত যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবু তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ‘ডিক্টেটরের মৃত্যু হোক’ স্লোগান শোনা যায়।
প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন (Iran)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের উপর প্রাণঘাতী দমন চালায়, তবে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে ইরানের ভিতরে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
আরও পড়ুন: Internet Blackout: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি! ইরান সরকারের ঘুম কাড়বে
খামেইনির বড় পরীক্ষা (Iran)
বিশ্লেষকদের মতে, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির জন্য এটি এক বড় পরীক্ষা। দমন-পীড়ন ও সীমিত ছাড় দিয়ে আগের আন্দোলন সামাল দেওয়া গেলেও, এবার তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



