Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গাজা সিটির পরিকল্পিত দখল ও মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন(Israel Palestine Conflict)। বুধবার ওয়েলিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার মনে হয় নেতানিয়াহু অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তিনি পথ হারিয়েছেন। আর আমরা যা দেখছি—গাজা সিটিতে আক্রমণ—এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন নিউজিল্যান্ডের রক্ষণশীল ন্যাশনাল পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বিবেচনা করছে—অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো ফাইভ-আইস (Five Eyes) নিরাপত্তা জোটের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে কি না। যুক্তরাষ্ট্র বাদে এখন এই জোটে একমাত্র নিউজিল্যান্ডই এখনো এই ঘোষণা দেয়নি।
মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা (Israel Palestine Conflict)
লাক্সন বলেন, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘অবাধ’ মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছানোর আহ্বান শুনছেন না(Israel Palestine Conflict)v। তিনি জানান, গাজা সিটির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে, কারণ এটি জনগণের জোরপূর্বক স্থানান্তর ও সম্ভাব্য সংযুক্তির ইঙ্গিত দেয়।
গাজায় বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২২৭ জন—এর মধ্যে ১০৩ শিশু—পুষ্টিহীনতায় মারা গেছে। সহিংসতা ও অনাহার একইসঙ্গে বাড়ছে, কারণ ইজরায়েল কঠোরভাবে সাহায্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। মঙ্গলবার বহু দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে বলেন, গাজায় দুর্ভোগ “অকল্পনীয় মাত্রায়” পৌঁছেছে এবং “আমাদের চোখের সামনে দুর্ভিক্ষ তৈরি হচ্ছে।”
পশ্চিমা নেতাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ (Israel Palestine Conflict)
লাক্সন একমাত্র পশ্চিমা নেতা নন যিনি সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও জানান, তিনি নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সঙ্গে কথা বলেছেন কিন্তু দেখেছেন যে, তিনি গাজার মানবিক ক্ষতির বিষয়ে “অস্বীকারের” অবস্থানে আছেন। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও জুলাই মাসে জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবেন। মাখোঁ তখনই যুদ্ধবিরতি, গাজায় মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার, সব জিম্মির মুক্তি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে জার্মানিতে জেলেনস্কি! আলোচনায় থাকছে কোন কোন বিষয়?
ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিত্রদের অমিল(Israel Palestine Conflict)
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। তবে ওয়াশিংটন এখন ক্রমশ তার নিকট মিত্রদের সঙ্গে ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধের ধরন নিয়ে মতবিরোধে পড়ছে।
দেশের ভেতরে চাপ (Israel Palestine Conflict)
লাক্সন সোমবার ঘোষণা করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেশে এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই ধীর ও অনিশ্চিত পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছেন(Israel Palestine Conflict)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক বলেন, এই মনোভাব “অপমানজনক” এবং নিউজিল্যান্ড যেন কোনো অবস্থান না নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।

আরও পড়ুন : Pakistan Spy Link : পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার ডিআরডিও অতিথিশালা ম্যানেজার
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বুধবার গ্রিন পার্টির সহ-নেতা ক্লোয়ে সোয়ারব্রিক সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হন, কারণ তিনি ক্ষমতাসীন জোটের এমপিদের ‘মেরুদণ্ড’ গজানোর আহ্বান জানিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল সমর্থন করতে বলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “যদি ৬৮ জন সরকারি এমপির মধ্যে মাত্র ৬ জনের মেরুদণ্ড থাকে, আমরা ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়াতে পারি।”
লাক্সনের এই বক্তব্য নিউজিল্যান্ডের বৈদেশিক নীতি ও ফাইভ-আইস অংশীদারদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে(Israel Palestine Conflict)। আন্তর্জাতিক চাপ, মানবিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক ভেতরের বিরোধ মিলিয়ে ওয়েলিংটনের আগামী সিদ্ধান্ত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।


