Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ ৯০ মিনিট হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এমাড ডিয়াল্লোর গোলে জয় পায় আইভরি কোস্ট (Ivory Coast)।
টানটান উত্তেজনার শেষে হার ইকুয়েডর-এর (Ivory Coast)
বিশ্বকাপের মহারণ কোনও টানটান থ্রিলারের থেকে কম কিছু নয়। যখন মনে হচ্ছে যে কোনও একটি বিষয় নিশ্চিত হতে চলেছে সেই সময় হঠাৎ করেই পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের ছবি। ঠিক যেমন থিলার সিনেমার শেষটা মনে হচ্ছে বুঝে গেছি ঠিক তখনই যেন লং শটে হেসে ওঠেন পরিচালক আর বদলে যায় সিনেমার ক্লাইম্যাক্স। এমনটাই ছিল ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট-এর ম্যাচটা (Ivory Coast)।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। দুই দলেরই প্রথম থেকে লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট সংগ্রহ। সেই সংকল্পে নিজেদের সবটা দিয়ে তাঁরা খেলেন। এই ম্যাচের শুরু থেকেই কাজ করছিল উত্তেজনা আর ম্যাচ যত এগোতে থাকে সেই উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। বলের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দর্শকদের হার্ট-বিট।
১১ মিনিটের মাথায়ই গোল করার সুযোগ আসে ইকুয়েডরের একজন প্লেয়ারের কাছে। তিনি বাঁ দিক ধরে দুরন্ত গতিতে ড্রিবল করে ক্রস বাড়ান। আইভরি কোস্ট-এর ডিফেন্ডার সেই অল সঠিক ভাবে জাজ করতে না পারায় বল আটকাতে পারেননি তবে সেই বল নির্দিষ্ট লক্ষ্য মিস করে নাহলে ম্যাচের শুরুতেই তাঁরা এগিয়ে যেতেন। এর পরে দুই দলই বিপক্ষের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াতে থাকেন এবং বারবার রক্ষণ ভেঙে উঠে আসেন একে অপরের ডি-বক্সে।

২৩ মিনিটের মাথায় ইকুয়েডর গোল করার কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়। এই সুযোগে, ইয়েবোয়া ডান প্রান্ত দিয়ে ড্রিবল করে ভেতরে ঢুকে আসেন এবং একটি জোরালো শট নেন যা আইভরি কোস্টের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বলটি ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। সমর্থকদের সেই উন্মাদনা যেন আবার পরিণত হয় হতাশায়। কারণ আরেকটি গোল থেকে বঞ্চিত হন তাঁরা (Ivory Coast)।
অন্যদিকে আইভরি কোস্ট নিজেদের খেলার ধরণ পাল্টে ফেললেও খুব বেশি তখনও লাভ করতে পারেননি। তাঁরা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সেটা যে খুব মারাত্মক ছিল তা নয়। বরং ইকুয়েডরের রক্ষণ বারবার সেই আক্রমণ প্রতিহত করে দেন। প্রথম হাফে স্কোর শিটে কোনও দলই নাম তুলতে পারেনি।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরু হলে অচলাবস্থা ভাঙার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে উভয় দলই আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু, প্রথমার্ধের মতোই, দুই দলের স্ট্রাইকাররাই গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েও সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হন। এই ম্যাচে ইকুয়েডরের আক্রমণ ছিল অনেক বেশি সুসংঘটিত। তবে তাঁরাও বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
আরও পড়ুন: NPCI Howrah: তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই-তে যোগ, হাওড়া কার্যালয়ে বাড়ল নিরাপত্তা
একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও একটিও গোল করতে পারেনি ইকুয়েডর। সেই সময় যখন সবাই ভাবতে শুরু করেছিল যে খেলাটি ড্র হবে, তখনই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায় আর সেই কারণেই ফুটবল অসম্ভবের মধ্যে সম্ভাব্য সুন্দর। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে, আইভরি কোস্ট একটি সুসংগঠিত আক্রমণ শুরু করে, এবং উইলফ্রিড সিঙ্গোর দেওয়া একটি নিখুঁত পাস থেকে আমাদ দিয়ালো একটি শক্তিশালী শট নেন, যা গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেজকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায় জালে। শেষ মিনিটে গোল স্বস্তি দেয় দলের সমর্থকদের। অতিরিক্ত সময়েও এই ফলের কোনও পরিবর্তন আর হয়নি। জয় দিয়েই নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল আইভরি কোস্ট (Ivory Coast)।


