Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ফুকুশিমা এই একটি নামই আজও জাপানের বহু মানুষের মনে আতঙ্ক (Largest Nuclear Plant), অবিশ্বাস আর গভীর মানসিক ক্ষতের প্রতীক। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও দগদগে। ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতেই নিগাতা প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার একটি চুল্লি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। এই সিদ্ধান্ত ফের উসকে দিয়েছে পুরনো ভয়, নতুন করে প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

ফুকুশিমা বিপর্যয় (Largest Nuclear Plant)
২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানের তোহোকু অঞ্চলের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আছড়ে পড়ে। সেই সুনামির ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয় ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি চুল্লি। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। হাজার হাজার মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়, বহু অঞ্চল আজও বসবাসের অযোগ্য। চের্নোবিলের পর এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পরমাণু দুর্ঘটনা। এই ঘটনার অভিঘাতে জাপান সরকার তৎকালীন সময়ে দেশের সবক’টি মোট ৫৪টি পরমাণু চুল্লি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
নিগাতায় চুল্লি চালু (Largest Nuclear Plant)
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নিগাতা প্রদেশে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি চালু করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মোট সাতটি চুল্লির মধ্যে আপাতত একটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তাঁর প্রশাসনের দাবি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

স্থানীয়দের আতঙ্ক ও প্রতিবাদ (Largest Nuclear Plant)
সরকারের এই সিদ্ধান্তে তীব্র উদ্বেগে নিগাতার স্থানীয় বাসিন্দারা। গত অক্টোবরে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, নিগাতার অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ পরমাণু চুল্লি চালু করার বিপক্ষে। প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চুল্লি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি বা টেপকোর উপর তাঁদের কোনও আস্থা নেই। ৫২ বছরের আয়াকো ওগা যিনি ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর পরিবার নিয়ে নিগাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলছেন, “পরমাণু চুল্লিতে দুর্ঘটনা হলে কী হয়, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেই স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায়। আমরা আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না।” ফুকুশিমার অভিজ্ঞতা বহু মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সমস্যা তৈরি করেছে উদ্বেগ, আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা আজও তাঁদের নিত্যসঙ্গী।
টেপকোর যুক্তি ও নিরাপত্তা আশ্বাস (Largest Nuclear Plant)
অন্যদিকে টেপকোর দাবি, তারা ফুকুশিমা বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়েছে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, সুনামির মোকাবিলায় নতুন করে শক্তিশালী সমুদ্রপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, জল ঢোকা রুখতে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় দরজা বসানো হয়েছে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়া রোধে ছাঁকনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে, সমস্ত যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে, টেপকোর প্রতিনিধি দল গত বছর অক্টোবরে চুল্লির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে সবুজ সংকেত দেয় বলেই জানানো হয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা (Largest Nuclear Plant)
ফুকুশিমার ঘটনার পর জাপান ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়ে। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যার ফলে প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই আর্থিক চাপ কমাতে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়াতেই বন্ধ থাকা পরমাণু চুল্লিগুলি ধাপে ধাপে চালু করার পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার।
কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য ও পরমাণু শক্তি
জাপান সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়েছে। কয়লা ও তেল নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নির্গমনকারী পরমাণু শক্তির উপর ফের নির্ভর করতেই চাইছে প্রশাসন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পরিবেশবান্ধব হওয়ার মূল্য কি মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি দিয়ে চোকাতে হবে?



