Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রামগড় জেলার আরাগাড়ায় ঝাড়খণ্ড স্টিল প্ল্যান্টে বয়লার বিস্ফোরণে নয়জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন, সাতজনের অবস্থা গুরুতর(Jharkhand Factory Blast)। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্ল্যান্টের গেটের বাইরে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন।
বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ ৯ (Jharkhand Factory Blast)
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার আরাগাড়ায় ঝাড়খণ্ড স্টিল প্ল্যান্টে একটি বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো প্ল্যান্টে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বয়লার বিস্ফোরণে নয়জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে (Jharkhand Factory Blast)
বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ফলে প্ল্যান্টের বাইরেও অনেকে আহত হন। শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছিলেন, এমন সময় হঠাৎ বিস্ফোরণটি ঘটে এবং আগুন ধরে যায়, এতে বহু লোক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের ফলে ভিতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে শ্রমিকরা পালিয়ে যান। গুরুতরভাবে দগ্ধ শ্রমিকদের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন অখিলা রায়, ব্রিজলাল বেদিয়া, রাজবালান যাদব, মহেশ মাহাতো, অশোক বেদিয়া, পণ্ডিতজি ওরফে রাজু ঝা, সোতু সা শঙ্কর বেদিয়া এবং আশিয়া।
আহতদের রাঁচির হাসপাতালে স্থানান্তর
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন ডাক্তারের মতে, নয়জন শ্রমিকের মধ্যে সাতজনের শরীরের ৮০-৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর আহতদের রাঁচি শহরের দেব কমল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সঠিক নিরাপত্তার অভাব
ঘটনাটি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে কারখানায় নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন যে, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হত এবং সময়মত প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হত, তাহলে এমন বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
বিধায়কের নেতৃত্বে বিক্ষোভ
ঘটনার পর, মান্ডুর বিধায়ক নির্মল মাহাতোর নেতৃত্বে শ্রমিক ও গ্রামবাসীরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও কারখানা বন্ধের দাবিতে কারখানার গেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিধায়ক নির্মল মাহাতো বলেন যে, কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল এবং শ্রমিকরা ব্যাপক শোষণের শিকার হচ্ছিলেন।
প্ল্যান্টে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স (Jharkhand Factory Blast)
রামগড় পুর পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান রণধীর গুপ্ত বলেন ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন, একটি চুল্লি বিস্ফোরিত হয়েছে এবং আহতরা গুরুতর অবস্থায় আছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এত বড় একটি প্ল্যান্ট অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াই চলছে। স্থানীয়রা নিজেদের গাড়ি এনে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এখানকার দূষণের মাত্রাও খুব বেশি এবং শ্রমিকরা ঠিকমত মজুরি পান না বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন: DHR Growth: যাত্রী ও আয়ে রেকর্ড বৃদ্ধি : সাফল্যে উজ্জ্বল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে
অনির্দিষ্টকালের জন্য প্ল্যান্ট বন্ধ (Jharkhand Factory Blast)
আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকবে। ঘটনার পর রামগড় থানার পুলিশ প্ল্যান্টে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন আসার পরেই সঠিক কারণ জানা যাবে।



