Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে এ দিন (Mamata Banerjees Dharna) রাজনীতির পাশাপাশি উঠে এল আন্দোলনের ইতিহাস, স্মৃতি এবং ভোটাধিকারের প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখলেন কবি জয় গোস্বামী ও সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি, গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রসঙ্গ (Mamata Banerjees Dharna)
কবি জয় গোস্বামী তাঁর বক্তব্যে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের (Mamata Banerjees Dharna) নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, সেদিন যখন নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পথে বারবার বাধা দেয় তৎকালীন সরকারের পুলিশ। জয় গোস্বামীর দাবি, তিন বার রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় স্তরে যোগাযোগের পর অবশেষে রাস্তা পরিষ্কার হয় এবং গভীর রাতে তিনি হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে আহত ও মৃত মানুষের দৃশ্য দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ভোরের দিকে তিনি নন্দীগ্রামে পৌঁছন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কবীর সুমনও।

কেন এই মঞ্চে উপস্থিত জয় গোস্বামী? (Mamata Banerjees Dharna)
জয় গোস্বামী আরও বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। সেই সময় ভোটাধিকার সংক্রান্ত নথি প্রমাণের জন্য তাঁকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। তিনি জানান, আইনি লড়াই করার ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা পেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব
ধর্নামঞ্চে উপস্থিত কবীর সুমনও নিজের বক্তব্য রাখেন এবং গান শোনান। তিনি বলেন, তিনি দলগত রাজনীতির মানুষ নন, তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও কাজের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও আন্দোলনের গান শোনা যায় মঞ্চে।

আবেগতাড়িত মুখ্যমন্ত্রী
ধর্মতলার মঞ্চে উপস্থিত কবীর সুমন ও কবি জয় গোস্বামীকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে তাঁরা ধর্নামঞ্চে এসেছেন। সুমন ও জয় গোস্বামীকে সামনে দেখে তাঁর নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলির কথা মনে পড়ে যায় বলে জানান তিনি। সেই সময়েও এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আন্দোলনের পাশে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, সমাজের নানা ক্ষেত্রের সম্মানিত মানুষ এ দিন ধর্নামঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: Axar Patel: ‘Catches win matches’, প্রমাণ করলেন অক্ষর
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে তা নিয়ে আন্দোলন চলবে। তাঁর দাবি, অনেক জীবিত মানুষকে নাকি মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে ভোটার তালিকায়। এমন কয়েক জনকে তিনি সামনে আনার কথাও জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে লড়াই চলবে আগামী দিনেও।


