Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘কাল’ ধাতু থেকে ‘কালী’ শব্দের উৎপত্তি। ‘কাল’ মানে সময় যাকে চোখে দেখা যায় না, অথচ যার প্রবাহে গড়ে ওঠে জীবন ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ড (Kali Puja 2025)। তাই মা কালী কালো বা ঘন নীলবর্ণা, তিনি সময়ের অতল গহ্বরের প্রতীক। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই তিন কালকে ধারণ করে তিনি ‘মহাকাল’। আর সেই মহাকালেরই শক্তি হলেন আদ্যাশক্তি কালী, দশমহাবিদ্যার প্রথম রূপ।
মধু-কৈটভ বধে আদ্যাশক্তির প্রাকট্য (Kali Puja 2025)
সৃষ্টির আদিতে, যখন বিষ্ণু যোগনিদ্রায় নিমগ্ন, তখন তাঁর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার জন্ম হয়। সেই সময় বিষ্ণুর কর্ণকমল থেকে উদ্ভূত হয় দুটি দৈত্য মধু ও কৈটভ। এই দুই অসুর ব্রহ্মাকে আক্রমণ করলে, ব্রহ্মা আদ্যাশক্তি মহামায়ার স্তব করেন। তাঁর আরাধনায় প্রকাশ পান মহাকালী, যিনি সেই দৈত্যদ্বয়কে বিনাশ করেন।
শুম্ভ-নিশুম্ভের বিনাশিনী অম্বিকা (Kali Puja 2025)
‘শ্রী শ্রী চণ্ডী’তে বলা আছে, শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই দৈত্যের অত্যাচারে দেবতারা ভীত হয়ে আদ্যাশক্তির আরাধনা করেন। তাঁদের ভক্তি ও প্রার্থনায় দেবী দেহকোষ থেকে আবির্ভূতা হন কৃষ্ণবর্ণা অম্বিকা, তিনিই কালী। তাঁর ক্রোধে শুম্ভ-নিশুম্ভ ও তাঁদের সেনাদল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
ত্রেতা যুগে ভদ্রকালীর আবির্ভাব (Kali Puja 2025)
রাবণের কন্যার তপস্যা ও দেবীর করুণাময় রূপ ত্রেতা যুগে রাবণের কন্যা (কিংবা বোন) কঠোর তপস্যা করলে দেবী তাঁর আরাধনায় তুষ্ট হয়ে ভদ্রকালী রূপে প্রকাশ পান। তিনি করুণাময়ী, নিরপেক্ষ দেব, দানব বা মানুষ, যিনিই তাঁকে ডাকেন, তিনি রক্ষা করেন। তাই মা কালীকে বলা হয়, সর্বশক্তিময়ী, সর্বত্র বিরাজমানা।
লোককথা ও দেবীর বহুমুখী প্রকাশ (Kali Puja 2025)
লোকবিশ্বাসে মা কালী নানা রূপে আবির্ভূতা হন, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, শ্মশানকালী, শকুন্তলাকালী, খ্যাপকালী, নিশিকালী, ডাকাতকালী, সিদ্ধেশ্বরীকালী ও করুণাময়ীকালী। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী, কালীঘাটের মা কালী তাঁরা সকলেই এক আদ্যাশক্তির বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।
পদচিহ্নের অবস্থানেই রূপভেদ (Kali Puja 2025)
যদি কালীমূর্তির দক্ষিণ পদ মহাদেবের বুকে আগে থাকে, তিনি দক্ষিণা কালী নামে পূজিতা হন। আবার যদি বাম চরণ আগে থাকে, তবে তিনি বামাকালী। দক্ষিণা কালী তান্ত্রিক উপাসনায় মুক্তি ও করুণার প্রতীক, বামাকালী শক্তি ও সংহার তত্ত্বের প্রতীক।
করাল রূপের অগ্নিজিহ্বা (Kali Puja 2025)
বেদান্তের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, ‘মুণ্ডক উপনিষদে’ কালীকে করালী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে অগ্নির লকলকে সাতটি জিহ্বা যেন তাঁর মুখে। সেই অগ্নিজিহ্বা জগৎসংহার ও পুনর্জন্মের প্রতীক।
কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের তন্ত্র প্রবর্তন (Kali Puja 2025)
ষোড়শ শতকের তান্ত্রিক পণ্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ দক্ষিণা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মূর্তিপূজার প্রচলন ঘটান। এর আগে তন্ত্রপূজা ঘট বা চক্ররূপে সম্পন্ন হত। তন্ত্রসাধনা গুরুমুখী বিদ্যা এতে পঞ্চমকার সাধনার উল্লেখ আছে, যার প্রকৃত অর্থ না বুঝে অনেক সাধক বিপদে পড়েছেন। তন্ত্রে ‘মৌনতা’ বা নীরব সাধনাই শ্রেষ্ঠ গুণ বলে মানা হয়।
রাম-সীতার অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন (Kali Puja 2025)
রামায়ণ অনুযায়ী, রাবণ বধ শেষে রামচন্দ্র, সীতা ও লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফেরেন। নগরবাসীরা তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে শহর সাজিয়ে তোলেন। সেই থেকেই এই দিন ‘দীপান্বিতা আমাবস্যা’ বা দীপাবলি নামে পরিচিত হয়। সীতা দেবী যেহেতু স্বয়ং লক্ষ্মীর রূপ, তাই এই দিন অনেক ঘরে লক্ষ্মীপুজোও হয়। অলক্ষ্মী বিদায় করে ধনদায়িনী লক্ষ্মীকে আহ্বান করা হয়।
ভক্তিই মুক্তির পথ (Kali Puja 2025)
সংসারী মানুষ সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভয়মোচনের জন্য কালীপুজো করেন। করালবদনা কালী ভক্তের দুঃখ, ক্লেশ, অশান্তি দূর করেন বলে বিশ্বাস। কিন্তু মূল তত্ত্ব হল ভক্তি ভক্তি সাগরে নিজেকে বিলীন করে মায়ের চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। রামপ্রসাদ সেন গেয়েছেন, “আর কাজ কী আমার কাশী,
মায়ের পদতলে পড়ে আছে গয়া গঙ্গা বারাণসী।”
আরও পড়ুন: Fatakesto Kali Puja 2025: গুণ্ডার দাপট না ভক্তের নিবেদন?
শনির প্রভাব কমাতে উপায় কী?
এইবার কালীপুজো শনিবার যুক্ত দিনে। যাঁদের শনির সাড়ে সাতি, শনির ঢাইয়া বা শনিদোষ চলছে তাঁরা মা কালীর পায়ের সিঁদুরমাখা জবা ফুল, বেলপাতা ও হাটের মাটি নিয়ে তিন ধাতুর কবচে ধারণ করুন। পুজোর দিন উপবাস থাকবেন। অসুস্থ হলে নিরামিষ ভোজন করবেন এবং সন্ধ্যায় পুজো শেষে প্রসাদ গ্রহণ করবেন।



