Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল মালদার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের সুজাপুর (kaliachak)। অভিযোগ, এলাকার একাধিক বিবেচনাধীন ভোটারের নাম এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনায় ক্রমশই ক্ষোভ জমতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে, যা বুধবার বিস্ফোরণের আকার নেয়।

ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল জনপদ (kaliachak)
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ভিন রাজ্য থেকে ৩ মহিলা সহ ৭ জুডিশিয়াল অফিসার কালিয়াচক ২নং ব্লক অফিসে আসেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দ্রুত সেই বিক্ষোভ গণআন্দোলনের চেহারা নেয়।
সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ প্রথমে শুরু হয় পথ অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসে পড়েন। বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে শুরু হয় রান্না-বান্না খাওয়া দাওয়া। ফলে মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় যান চলাচল। একের পর এক পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুল্যান্সসহ বহু যানবাহন দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ে। সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় (kaliachak)
দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুপুর ২টো নাগাদ বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিস ঘেরাও করেন। প্রশাসনিক দফতরের কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। অফিস চত্বরে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকার ফলে গোটা এলাকাজুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের একাধিক দফায় কথাবার্তা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় চাপানউতোর। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আবেদন জানান এবং বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে সমাধানের আশ্বাস দেন।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ (kaliachak)
পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যেতে থাকলে রাতের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হলে শুরু হয় কড়া পদক্ষেপ। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় জোরদার অভিযান চালানো হয়। মধ্যরাত নাগাদ অবশেষে ঘেরাওয়ের মধ্যে আটকে পড়া জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ইট-পাটকেল, ব্যারিকেড, টহলদারি (kaliachak)
তবে উদ্ধার অভিযান চলাকালীনও উত্তেজনা কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ওপর বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইঁট-পাটকেল ছোঁড়েন। পাল্টা বাহিনীর তরফে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার পর গোটা সুজাপুর এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর চলে টহলদারি।
ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন শাসকদল তৃণমূলকে। পাল্টা এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশন ও গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করেছেন কুণাল ঘোষ।
প্রশাসনের দাবি
দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। রাত প্রায় ১টার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এলাকা। তবে এখনও এলাকাজুড়ে সতর্কতা জারি রয়েছে এবং গোটা ঘটনার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।



