Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৬-এর নির্বাচনের লক্ষ্য মাথায় রেখে বঙ্গ বিজেপির সব ঘাতকদ্বন্দ্ব মিটিয়ে এক ছাতার তলায় আনার দায়িত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি দলের বিধায়ক ও সাংসদদের তৎপরতায় বাঁধা দিলেন। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যারা বর্তমানে বিধায়ক, তাদের পুনরায় টিকিট পাওয়া মোটেই সহজ হবে না। আগামী দুই মাস তাদের ‘যোগ্যতা পরীক্ষার’ মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী শাহ তাদের জন্য কঠোর টাস্কও বেঁধে দেন।

বিধায়কদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা (Amit Shah)
শাহের নির্দেশে বিধায়কদের জন্য কিছু স্পষ্ট নিয়মাবলী ঠিক করা হয়েছে, যা মেনে চলা বাধ্যতামূলক:, সপ্তাহে অন্তত চার দিন নিজ এলাকায় থাকতে হবে, প্রতিদিন অন্তত ৫টি পথসভা আয়োজন করতে হবে, নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ বাড়াতে হবে, কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে চা ও সহ-ভোজের আয়োজন করতে হবে, সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে, কোনও মন্তব্য যেন দলকে বিপাকে না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, এগুলো শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়, বরং শাসন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহরতলিতে পদ্মফুলের জয়ের লক্ষ্য (Amit Shah)
কলকাতা ও শহরতলির ২৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্তত ২০টি আসনে পদ্মফুল জিতিয়ে আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন শাহ। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রার্থী যেই হোক, জয় নিশ্চিত করতে হবে, কোনও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এখানে প্রাধান্য পাবে না। তাঁর কথায়, “দিল পে লিখলো হামারা সরকার হোগা।” শাহের এই দৃঢ় বার্তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশার প্রমাণ, যেখানে বিজেপি এককভাবে বাংলায় সরকার গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে হাতিয়ার (Amit Shah)
রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে অমিত শাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ ইস্যুকে প্রচারে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, “মা-মাটি-মানুষের স্লোগান দিলেও আজ অনুপ্রবেশের দাপটে কলকাতা সুরক্ষিত নয়।” এই কড়া বার্তার মাধ্যমে বোঝা যায়, ২০২৬-এর লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো ফাঁক রাখতে চায় না। নব্য-আদি বিবাদ ভুলে, নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করাই এখন বঙ্গ বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিষ্যশৃঙ্খলাকারী নেতারা, যেমন: শিশির বাজোরিয়া, বিজেপি নেতা (৫:৫১ থেকে ৬:০৪ সেকেন্ড), রাহুল সিনহা, বিজেপি নেতা (১৬:২৪ থেকে ১৬:৪১ সেকেন্ড), এদের বক্তব্যে দেখা যায়, দল এক সুস্পষ্ট লক্ষ্যে অনড় এবং নতুন দিশা গ্রহণ করেছে।



