Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি কালীঘাট তৃণমূলের। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নয় জুলাই এর নির্দেশই বহাল রাখল বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ (Kalighat TMC)। অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে একাউন্ট থেকে নিত্যদিনের খরচ করা যাবে। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কাছে যাবতীয় আপত্তি জানাতে ঋতব্রত শিবিরকেও সুপ্রিম কোর্টের। তিনিই অভিযোগের ভিত্তিতে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবেন বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।
টাকা মেটানো সম্ভব হয়নি (Kalighat TMC)
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকায় দলের প্রায় আড়াইশো কর্মচারীর বেতন আটকে গিয়েছে। কর্মীদের বেতন-সহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে মোট ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা প্রয়োজন। এছাড়াও অফিসের কাজের জন্য অন্যান্য কর্মচারী এবং সিকিউরিটি এজেন্সিকে চুক্তিভিত্তিতে টাকা দিতে হয়। দলের ১৭টি কার্যালয় মিলিয়ে প্রতি মাসে খরচ প্রায় এক কোটি টাকা। নির্বাচনের সময় যারা কাজ করেছেন, এখনো পর্যন্ত তাদের টাকা মেটানো সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ করেন তৃণমূলের আইনজীবী (Kalighat TMC)
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ তুলে ধরে কপিল সিব্বল বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিল আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার নজরদারিতে একাউন্টগুলি ব্যবহার করে প্রতিদিনের খরচ করা যাবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি নতুন করে ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে একটি সংস্থা থেকে এয়ারক্রাফ্ট নেওয়া হয়েছিল। সেই সংস্থার অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেন তৃণমূলের আইনজীবী।
টাকা বাজেয়াপ্ত করে রাখা হবে (Kalighat TMC)
এদিন শুনানিতে ইডি-এর আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘অন্যান্য যে অ্যাকাউন্টগুলো আছে সেগুলি থেকে টাকা নিয়ে কাজ চালাতে পারে। তখন কপিল সিব্বল বলেন, ইডি বলছে, বাকি ৩৬টি অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকা আছে। সেই টাকা ব্যবহার করতে বলছে। কিন্তু সেই ৩৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩১টিই ফিক্সড ডিপোজিট। আর বাকি পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ফিক্স ডিপোজিট ভাঙলে সেই টাকা ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে গিয়েই জমা হবে। এই পাঁচটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে চারটি ফ্রিজ করা আছে। ইডি আমাদের সব তথ্য দিচ্ছে না। ইডি-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রসিড অফ ক্রাইম ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু তারা ব্যাঙ্কে ৪০০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করে রেখে দিয়েছে। সব টাকা কেন বাজেয়াপ্ত করে রাখা হবে?’
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে (Kalighat TMC)
ইডি-এর আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতকে জানান, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের যে অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা আছে সেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। এছাড়াও এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত। কারা প্রকৃত তৃণমূল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্ব। তার উত্তরে কপিল সিব্বল বলেন দু’টি অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে। তখন এসভি রাজু আদালতকে জানান, তারা এ ব্যাপারে আদালতকে হলফনামা দিতে চান। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ বলেন, ‘কারা প্রকৃত তৃণমূল তা নিয়ে আদালতের কোনও মাথা ব্যথা নেই। কলকাতা হাইকোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’
তছরুপের অভিযোগ তুলতে পারে (Kalighat TMC)
কালীঘাট তৃণমূলের আরেক আইনজীবী মেনোকা গুরুস্বামী আদালতে অভিযোগ করেন, যে দুটি অ্যাকাউন্টের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে একটি সংবাদপত্রের অ্যাকাউন্ট। আর বাকিগুলি দলের সদস্যদের চাঁদার ওয়েলফেয়ার অ্যাকাউন্ট। যদি সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করা হয় তাহলে ইডি তহবিল তছরুপের অভিযোগ তুলতে পারে।
একাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি (Kalighat TMC)
ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী কে পরমেশ্বর আদালতে দাবি করেন সমস্ত অ্যাকাউন্টেই আর্থিক তছরূপ হয়েছে। কারা প্রকৃত তৃণমূল, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। নির্বাচন কমিশনে তা বিচারাাধীন রয়েছে। কারা প্রকৃত তৃণমূল, যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্ধারিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো কোনও একপক্ষকে একাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় (Kalighat TMC)
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, গত ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল সেটাই বহাল থাকবে। অর্থাৎ দলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরকেও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, তাদের সমস্ত আপত্তি স্পেশাল অফিসারের কাছে গিয়ে জানাতে। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারই যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবেন।
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Kalighat TMC)
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর তৃণমূল থেকে বেরিয়ে নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাদের নেতৃত্বে নির্বাচিত কিছু তৃণমূল বিধায়ক। এরপরই শরৎ বোস রোডে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের সমস্ত অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করেন দলের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। তারপরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাও বিধান নগর দক্ষিণ থানাকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানান। পরের দিনই বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ শরৎ বোস রোডের ব্যাংকের শাখায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।
চেকে সই করার অনুমতি (Kalighat TMC)
পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল। গত ৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বিচারপতি নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেন, মামলাকারীদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অধিকার আছে। আদালত হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার নিয়োগ করে। তিনি তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের উপর নজর রাখবেন। ওই তিন অ্যাকাউন্টের দলের দুই সিগনেচার অথরিটি এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মধ্যে যে কোনও দু’জনকে চেকে সই করার অনুমতি দেয় আদালত।
২১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি (Kalighat TMC)
তারপর ওই চেকে কাউন্টার সই করবেন স্পেশাল অফিসার। তারপর সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা পড়বে। প্রতিদিনের খরচের জন্য এই অ্যাকাউন্ট গুলো থেকে চেক ইস্যু করা যাবে। বড় কোনও খরচের জন্য স্পেশাল অফিসার হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের অনুমতি নিতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এবং ততদিন পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। তবে তদন্ত যেমন চলছে, তেমন চলবে বলে নির্দেশে জানায় হাইকোর্ট। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অগ্ৰগতি রিপোর্ট তলব করে আদালত। আদালত তদন্তে কোনরকম হস্তক্ষেপ করবে না। কোন পক্ষকে দলের প্রতীকের মালিকানা দেওয়া হবে বা কারা আসল তৃণমূল, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরও পড়ুন: Prakash Raj SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ: কড়া প্রতিক্রিয়া অভিনেতা প্রকাশ রাজের
সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল
এই নির্দেশের মধ্যেই ইডি তদন্তে নেমে নতুন করে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট গুলো ফ্রিজ করে। আবারও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণরাও তাদের সেই আবেদনে কোনরকম হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর নির্দেশই বহাল থাকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।



