Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : নারীদের কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ‘Menstrual Leave Policy 2025’ অনুমোদন করল কর্ণাটক সরকার(Menstrual Leave Policy)। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই কর্মরত মহিলারা এখন থেকে প্রতি মাসে একদিন করে বেতনসহ ছুটি নিতে পারবেন ঋতুকালীন সময়ে।
এক বছরে সর্বাধিক ১২ দিনের ছুটি (Menstrual Leave Policy)
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বছরে মোট ১২ দিন পর্যন্ত পেইড লিভ নিতে পারবেন মহিলারা। তাঁরা ইচ্ছা করলে প্রতি মাসে একদিন করে বা একসঙ্গে একাধিক দিন ছুটি নিতে পারবেন—যেভাবে তাঁদের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধাজনক হয়।
রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড (Santosh Lad) বলেছেন, “আমরা নারী কর্মীদের জন্য মাসিক ছুটি অনুমোদন করেছি। এটি রাজ্যের সবচেয়ে প্রগতিশীল নীতিগুলির মধ্যে একটি। একজন নারী যেমন পেশাজীবী, তেমনি মা, কন্যা বা স্ত্রী—এই বহুমাত্রিক দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।”
সরকারি থেকে বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য(Menstrual Leave Policy)
‘Menstrual Leave Policy 2025’ শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়(Menstrual Leave Policy)। এটি প্রযোজ্য হবে সরকারি অফিস, গার্মেন্টস শিল্প, বহুজাতিক সংস্থা, আইটি কোম্পানি এবং অন্যান্য বেসরকারি ক্ষেত্রেও। ফলে রাজ্যের প্রায় সব কর্মজীবী নারী এই নীতির আওতায় আসবেন।
নীতিটি ২০২৪ সালের প্রাথমিক খসড়া থেকে বিকশিত হয়েছে, যেখানে বছরে ছয় দিনের ছুটির প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সংশোধনের পর বর্তমান নীতিতে তা দ্বিগুণ করে ১২ দিন বেতনসহ ছুটি করা হয়েছে।

দেশজুড়ে উদাহরণ তৈরি করল কর্ণাটক
কর্ণাটকের এই পদক্ষেপ ভারতের কর্মক্ষেত্রে নারীদের অন্তর্ভুক্তি ও সহানুভূতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার পথে এক বড় দৃষ্টান্ত(Menstrual Leave Policy)। রাজ্যটি এই বিষয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কেরল সরকার ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটস (ITI)-এর মহিলা প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য প্রতি মাসে দু’দিনের ঋতুচক্র ছুটি চালু করেছে।
অন্যদিকে, বিহার ও ওডিশা সরকার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বছরে ১২ দিনের মাসিক ছুটি দেয়। তবে কর্ণাটক প্রথম রাজ্য, যেখানে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য হয়েছে।
নারীর কল্যাণে ‘প্রগতিশীল কর্ণাটক’
রাজ্য সরকারের দাবি, এই নীতি শুধুমাত্র একদিনের ছুটির বিষয় নয়, বরং এটি নারীদের স্বাস্থ্য, সম্মান ও কর্মক্ষেত্রে সমতার স্বীকৃতি(Menstrual Leave Policy)।
শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড বলেন, “এটি শুধু এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি এমন এক সামাজিক বার্তা, যা নারী কর্মীদের বাস্তবিক শারীরবৃত্তীয় চাহিদাকে স্বীকৃতি দেয়। কর্ণাটক সরকার এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, যেখানে কর্মক্ষেত্র আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।”

আরও পড়ুন : Gaza Peace : গাজায় শান্তি প্রক্রিয়ায় সাফল্যে নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে অভিনন্দন মোদির
কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির পথে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের কর্মক্ষেত্রে ‘ইনক্লুসিভ ও প্রো-হেলথ’ নীতির দিকে এক দৃঢ় পদক্ষেপ(Menstrual Leave Policy)। এটি শুধু নারীদের উৎপাদনশীলতা নয়, তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
সার্বিকভাবে, কর্ণাটকের এই ‘Menstrual Leave Policy 2025’ কর্মক্ষেত্রে নারী-স্বাস্থ্যের মর্যাদা ও সহানুভূতির নতুন অধ্যায় সূচনা করল, যা দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।


