Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছরের মতোই এই দিনটির লক্ষ্য—মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সবার জন্য মানসিক সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা (World Mental Health Day)। এ বছরের প্রতিপাদ্য “Access to Services – Mental Health in Catastrophes and Emergencies”, অর্থাৎ বিপর্যয় ও জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা।
মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিন: জেপি নাড্ডা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (Jagat Prakash Nadda) এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বলেছেন, “আজকের দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক ও আবেগজনিত সুস্থতাকে জীবনের অগ্রাধিকার দিতে হবে (World Mental Health Day)।” তিনি আরও বলেন, এই দিনটি এমন এক সুযোগ, যেখানে মানুষ খোলামেলা ভাবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে পারে এবং সমাজে সচেতনতা বাড়াতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, “বিপর্যয় বা জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে যত্ন, বোঝাপড়া এবং সময়মতো মানসিক সেবার সুযোগ থাকবে সবার জন্য।”
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য (World Mental Health Day)
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য শুরু হয় অনেক আগে, এমনকি জন্মের আগেই। গর্ভাবস্থায় মায়ের চাপ, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা শিশুর ভবিষ্যৎ আবেগগত বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে(World Mental Health Day)। জন্মের পরে শিশুর পরিবার, পরিচর্যাকারী ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক তার অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা ও সমস্যার মোকাবিলার দক্ষতা গড়ে তোলে—যা সারাজীবনের মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি।

আরও পড়ুন : First Bullet Train: ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে চালু হতে পারে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন, জানালেন রেলমন্ত্রী
শিশুর মানসিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ
চার বা পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিশুর মধ্যে মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে (World Mental Health Day)। বারবার রেগে যাওয়া, ভয় পাওয়া, একা হয়ে যাওয়া বা আক্রমণাত্মক আচরণ—এসবই হতে পারে ভিতরে জমে থাকা উদ্বেগ বা চাপের ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়েই সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে বড় মানসিক সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।
গবেষণা বলছে, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে মানসিক সহায়তা শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে। এই বয়সে সাহায্য পেলে তারা রাগ নিয়ন্ত্রণ, আবেগ প্রকাশ ও আত্মবিশ্বাস গঠনের কৌশল শিখে নেয়। পরবর্তী সময়ে এই অভ্যাস গড়ে তোলা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
অভিভাবকদের ভূমিকা (World Mental Health Day)
অভিভাবকরাই শিশুর মানসিক বিকাশের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে শিখে কীভাবে চাপ সামলাতে হয় (World Mental Health Day)। তাই বাবা-মায়ের নিজেদের মানসিক স্থিতিশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও বোঝাপড়াপূর্ণ সম্পর্ক শিশুর মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : Gaza Peace : গাজায় শান্তি প্রক্রিয়ায় সাফল্যে নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে অভিনন্দন মোদির
স্কুলে মানসিক সহায়তার ঘাটতি
ভারতের অনেক স্কুলে মনোবিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলর নেই, ফলে অনেক সময় শিশুর মানসিক সমস্যা ‘আচরণগত সমস্যা’ হিসেবে ভুল বোঝা হয়(World Mental Health Day)। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, আবেগ নিয়ে আলোচনা ও সহপাঠী সহায়তা কর্মসূচি চালু করা জরুরি। এতে শিশুদের মধ্যে সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
স্ক্রিন টাইমের প্রভাব(World Mental Health Day)
আজকের শিশুরা প্রায় সারাক্ষণ স্ক্রিনে সময় কাটায় (World Mental Health Day)। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর ভাষা, মনোযোগ ও আবেগ বোঝার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সামাজিক মাধ্যমের চাপ ও অনলাইন গেমের আসক্তি কিশোরদের উদ্বেগ ও নিদ্রাহীনতা বাড়াচ্ছে। তাই অভিভাবকদের উচিত স্ক্রিন সময় নিয়ন্ত্রণ করা ও শিশুদের বাস্তব জীবনে সময় কাটাতে উৎসাহ দেওয়া।
প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক সহায়তা শিশুদের শুধু স্কুলে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য এনে দিতে পারে। শিশুর মানসিক যত্ন নেওয়া মানে পুরো পরিবারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে বড় হতে পারে।


