Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাশ্মীর উপত্যকায় আবারও বড়সড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ছবি (Kashmir)। বহু বছর ধরে গোপনে সক্রিয় থাকা এক আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসবাদী চক্রকে ভেঙে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৬ বছরের গোপন নেটওয়ার্কের অবসান (Kashmir)
Lashkar-e-Taiba (LeT)-এর এক শীর্ষ কমান্ডার আবদুল্লাহ ওরফে আবু হুরেইরাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ভেঙে পড়ল ১৬ বছর ধরে চলা এক সুসংগঠিত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন এবং জম্মু-কাশ্মীর সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এই নেটওয়ার্ক শুধু কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাজস্থান ও হরিয়ানার মতো রাজ্যেও এর বিস্তার ছিল যা গোটা ঘটনাকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
১৯টি জায়গায় তল্লাশি (Kashmir)
নিরাপত্তা বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থার যৌথ অভিযানে গত কয়েক দিনে মোট ১৯টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি অভিযান চলে মূলত তিনটি রাজ্যে জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান, হরিয়ানা এই অভিযানেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র যার মধ্যে রয়েছে একাধিক AK-47, AK-Krinkov রাইফেল, পিস্তল, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

কারা গ্রেফতার হল? (Kashmir)
এই অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হল, আবদুল্লাহ ওরফে আবু হুরেইরা (শীর্ষ কমান্ডার), উসমান ওরফে খুবাইব, মোহাম্মদ নাকিব ভাট, আদিল রশিদ ভাট, গুলাম মোহাম্মদ মির, তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় তিনজন অভিযুক্ত জঙ্গিদের আশ্রয়, খাদ্য ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিতেন।
ভুয়ো পরিচয়ের জাল (Kashmir)
ধৃত দুই জঙ্গি ‘A+’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিদের জন্য নির্ধারিত। তারা ভুয়ো নথি ও পরিচয় ব্যবহার করে শুধু কাশ্মীর নয়, ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও তাদের কার্যকলাপ চালাত। এই ভুয়ো পরিচয়ের জালই তাদের দীর্ঘদিন ধরা না পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৪০ জন বিদেশি জঙ্গির নেতৃত্ব! (Kashmir)
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই কমান্ডাররা গত ১৬ বছরে প্রায় ৪০ জন বিদেশি জঙ্গিকে পরিচালনা করেছে। এদের অধিকাংশকেই নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই খতম করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, এই নেটওয়ার্ক শুধু সক্রিয়ই ছিল না, বরং অত্যন্ত সংগঠিত ও প্রভাবশালী ছিল।
অর্থ ও লজিস্টিক সাপোর্টের গোপন চক্র (Kashmir)
এই চক্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অর্থ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা। তদন্তে উঠে এসেছে, কীভাবে জঙ্গিদের অর্থ জোগানো হত, কোথা থেকে অস্ত্র আসত, কীভাবে নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা হত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘সেফ হাউস’ তৈরি করা হয়েছিল, যা জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহৃত হত।
আরও পড়ুন: Lovely Maitra Controversy: ‘বাংলাদেশ ভোট’ হ্যাশট্যাগে বিতর্ক, ক্ষোভের নিশানায় লাভলি!

একটি গ্রেফতার থেকেই সূত্র
৩১ মার্চ শ্রীনগরে প্রথম গ্রেফতার হন নাকিব ভাট। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার জেরাতেই ধাপে ধাপে ধরা পড়ে, আদিল রশিদ ভাট, গুলাম মোহাম্মদ মির এভাবেই গোটা নেটওয়ার্কের জাল উন্মোচিত হতে শুরু করে। তদন্তে জানা গেছে, শ্রীনগর ও আশপাশের বনাঞ্চলে একাধিক গোপন ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল। এই জায়গাগুলি অস্ত্র মজুত ও জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করা হত।



