Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রো-খালিস্তান (Khalistan Movement) সংগঠন সিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে) বুধবার ঘোষণা করেছে যে তারা কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ভারতীয় কনস্যুলেটকে ‘অবরোধ’ করবে। সংগঠনটি ইন্দো-কানাডীয়দের ওই দিন নিয়মিত কনস্যুলেট পরিদর্শন না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে পোস্টার ঝুলিয়ে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনিশ পট্টনায়ককে নিশানা করেছে। অভিযোগ, ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলো কানাডায় খালিস্তানি কর্মীদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে।
খালিস্তান ভাবনার জন্ম কীভাবে?(Khalistan Movement)
খালিস্তান আন্দোলনের শিকড় পাওয়া যায় ব্রিটিশ আমলেই(Khalistan Movement)। ১৯৪০-এর দশকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রেক্ষিতে মাস্টার তারা সিং প্রমুখ শিখ নেতা একটি স্বাধীন শিখভূমির দাবি তুলেছিলেন। ‘খালিস্তান’ বা ‘শিখিস্তান’ শব্দ তখন থেকেই রাজনৈতিক আলোচনায় ঢুকে পড়ে। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়ক স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস শিখ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবির উল্লেখ করেন। যদিও স্বাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে শিখদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য দাঁড়ায় ভাষাভিত্তিক ‘পাঞ্জাব রাজ্যের’ দাবি, যা ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনের উত্থান ১৯৭০ থেকে ১৯৮০-এর দশক(Khalistan Movement)
অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিখদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার ফলে ১৯৭০-এর দশক থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব গাঢ় হতে থাকে(Khalistan Movement)। এই সময়ে উত্থান ঘটেছিল ধর্মীয় নেতা জর্ণাইল সিং ভিন্দ্রanwালে-র, যিনি খালিস্তান আন্দোলনকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেন। এর ফলশ্রুতিতেই ঘটে অপারেশন ব্লু স্টার এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪-র দাঙ্গা, যা সারা বিশ্বের শিখ সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন : Modi 75th Birthday : মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন অ্যালবানিজ-নেতানিয়াহুর
কানাডায় প্রবাসী শিখ ও আন্দোলনের বিস্তার (Khalistan Movement)
কানাডায় শিখ অভিবাসন শুরু হয় ১৯০০-এর শুরুর দিকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গড়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাসী শিখ সমাজ (প্রায় ৭.৮ লাখ মানুষ(Khalistan Movement))। ১৯৭১ সালে জগজিৎ সিং চৌহান প্রবাসে খালিস্তানের প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে আন্দোলনকে বৈশ্বিক মাত্রা দেন। কানাডার মাটিতেই আন্দোলনের তহবিল সংগ্রহ, প্রচার এবং রাজনৈতিক লবিং কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৮৪-এর প্রেক্ষাপট ও এর অভিঘাত
অপারেশন ব্লু স্টারের পর ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং সারা ভারতে শিখবিরোধী দাঙ্গা কানাডায় প্রবাসী শিখদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বাড়িয়ে তোলে। অনেক পরিবার কানাডায় আশ্রয় নেয়, সঙ্গে নিয়ে আসে সহিংস স্মৃতি ও ক্ষোভ।
আরও পড়ুন : Modi On Nuclear Threat : নতুন ভারত পরমাণু হুমকির ভয় পায় না, জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের সভায় বললেন মোদি
কানাডায় খালিস্তানি জঙ্গি কার্যকলাপ(Khalistan Movement)
১৯৮০-এর দশকে কানাডা থেকেই সক্রিয় হয় বাব্বর খালসা, যার নেতা ছিল তলবিন্দর সিং পারমার(Khalistan Movement)। ১৯৮৫ সালে এ সংগঠন কুখ্যাত এয়ার ইন্ডিয়া ১৮২ ফ্লাইট বোমা হামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যাতে ৩২৯ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনা কানাডার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন তুলেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও দ্বন্দ্ব
ভারতে ১৯৯০-এর দশক থেকে সেনা (INDIAN ARMY) অভিযানে খালিস্তানি আন্দোলন প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়(Khalistan Movement)। তবে কানাডায় বিভিন্ন সংগঠন যেমন এসএফজে এখনও সক্রিয়। তারা গণভোট আয়োজন, প্রতিবাদ এবং প্রভাব বিস্তার চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ আন্দোলন প্রবাসী শিখ সমাজে সমর্থন পায়, পাঞ্জাবের বাস্তব মাটিতে এর অস্তিত্ব আজ প্রায় নেই বললেই চলে।
কেন কানাডায় টিকে আছে আন্দোলন?
কানাডার শক্তিশালী স্বাধীন মতপ্রকাশের সুরক্ষা প্রো-খালিস্তানি সংগঠনগুলোকে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করেছে (Khalistan Movement)। ভারত অভিযোগ করে, এভাবে কানাডা চরমপন্থীদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। বিশ্লেষক টেরি মাইলেভস্কি তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, কানাডার শৈথিল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের কারণে উগ্রপন্থীরা সুযোগ পেয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করছে।
আজকের বাস্তবতায় খালিস্তান আন্দোলন ভারতীয় পাঞ্জাবে আর প্রাসঙ্গিক নয়। তবে কানাডার প্রবাসী শিখদের মধ্যে এর প্রতিধ্বনি এখনও শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দোলন ভেতরে ভেতরে বিভক্ত হলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ভারত-কানাডা সম্পর্কের বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


