Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে তেহরানে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই। হামলার পরদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন(Khamenei Missile)।
ট্রাম্পের ঘোষণা (Khamenei Missile)
ট্রাম্প লিখেছিলেন, “ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ব্যক্তি খামেনেই আর বেঁচে নেই। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্য নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশের সেই সব মানুষের জন্য ন্যায়বিচার, যারা খামেনেই ও তার সহযোগীদের হাতে নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
খামেনেইয়ের ‘মৃত্যুবাণ’
তবে ইরানের এই শক্তিশালী নেতাকে হত্যা করা সহজ ছিল না। কয়েক মাস ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার পরিকল্পনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়, তা ছিল ইসরায়েলের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘ব্লু স্প্যারো’।
কুখ্যাত ‘চড়াই’ সিরিজের অস্ত্র
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনেইয়ের কম্পাউন্ডে আঘাত হানে এই মিসাইল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমসের তৈরি ‘স্প্যারো’ সিরিজের অংশ এই ব্লু স্প্যারো। একই পরিবারের আরও দুটি মিসাইল হলো ব্ল্যাক স্প্যারো ও সিলভার স্প্যারো।
‘নীল চড়াই’য়ের লক্ষ্যমাত্রা
প্রায় ৬.৫ মিটার লম্বা এবং প্রায় ১.৯ টন ওজনের এই মিসাইল সাধারণত ইসরায়েলের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এর নিশানা প্রায় ১,২৪০ মাইল পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু স্প্যারোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে মহাকাশের প্রান্তে উঠে গিয়ে আবার নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ফলে একে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ট্রাফিক ক্যামেরায় ট্র্যাক (Khamenei Missile)
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ইউনিট ৮২০০ বহু বছর ধরে খামেনেইয়ের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিল। এমনকি ট্রাফিক ক্যামেরার মাধ্যমেও তাকে ট্র্যাক করা হয়। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পরিকল্পনা করে।
আকস্মিক হামলাতেই মৃত্যু (Khamenei Missile)
হামলার আগে খামেনেই গভীর ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখানে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লাগত। কিন্তু শনিবার সকালে আকস্মিক হামলায় তার কম্পাউন্ড ধ্বংস হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বড় সংঘাত শুরু হয়েছে।



