Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলি জেলার খানাকুলে ফের বন্যার ভ্রুকুটি (Khanakul in Hooghly District)। ডিভিসি -র জলাধার থেকে নতুন করে জল ছাড়ার ফলে এবং অবিরাম বৃষ্টিপাতে ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এলাকায়। সিঁদুরে মেঘ দেখছেন খানাকুল ও আশপাশের গ্রামগুলির মানুষ।

জলস্তর বৃদ্ধিতে আশঙ্কা বাড়ছে (Khanakul in Hooghly District)
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে মুণ্ডেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদীর জলস্তর অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সঙ্গে টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নদীবাঁধ ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে। নদীতে জলের চাপ দ্রুত বেড়ে চলায় যে কোনও সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই মুণ্ডেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদীর বাঁধ উপচে কিছু গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে।
প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক গ্রাম (Khanakul in Hooghly District)
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে কয়েক হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তার জেরে মুণ্ডেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় খানাকুলের জগৎপুর, নন্দনপুর, বার নন্দনপুর, জগদীশতলা, রাজহাটি, মাড়োখানা–সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বন্ধ বাস চলাচল, চাষে ক্ষয়ক্ষতি (Khanakul in Hooghly District)
জগদীশতলায় মায়াপুর–গড়েরঘাট রাজ্য সড়কের উপরে কোমর সমান জল জমে যাওয়ায় সকালে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দুপুরে কিছুটা পরিস্থিতি সামলে বাস চলাচল শুরু হলেও ছোট যানবাহন যেমন টোটো ও মোটরবাইক এখনও চলাচল করতে পারছে না। নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা অর্চনা মণ্ডল বলেন, “সমস্ত জমিতে নদীর জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত। জল আরও বাড়লে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”
বন্যার ক্ষত এখনও শুকোয়নি (Khanakul in Hooghly District)
কয়েক মাস আগেই বাঁধ ভেঙে আরামবাগ ও খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পরে কিছু জায়গায় মেরামতির কাজ হলেও এখনও অনেক এলাকায় কাজ চলছে। এই অবস্থায় আবার জলস্তর বাড়ায় সেখান দিয়ে নতুন করে জল ঢোকার ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের নজরদারি ও সতর্কতা (Khanakul in Hooghly District)
আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ডিভিসি’র জলাধার থেকে মোট ৪৬,৮৫০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিভিসি’র জল ছাড়ার জেরে হাওড়ার উদয়ননারায়ণপুর ও আমতায়ও দামোদর নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: Pandemic Potential From Arctic Ice: জেগেছে নতুন ভাইরাস? প্রাচীন জীবাণু কি আনবে নতুন অতিমারি?
বিপদসীমার নিচে জলস্তর?
খবর সূত্রে জানা যায়, সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে নদীর জলস্তর কিছুটা বাড়লেও তা এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সেচ দপ্তরের নিম্ন দামোদর নির্মাণভুক্তি বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুরজিৎ দাস বলেন, “সোমবার ডিভিসি ৩৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছিল। তার সঙ্গে বৃষ্টির জল মিলিয়ে মঙ্গলবার প্রায় ৫০ হাজার কিউসেক জল দামোদর নদ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।”



