Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পুলিশ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে(Khyber Pakhtunkhwa Clash)। ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বান্নু জেলার পুলিশ কর্মীরা কাজ বয়কট করে প্রতিবাদে নেমেছেন। সাতজন পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বদলি এই বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ হলেও, নেপথ্যে রয়েছে সেনার লাগাতার হস্তক্ষেপ।
সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ (Khyber Pakhtunkhwa Clash)
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাউন্টার-টেররিজম অভিযানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
অভিযানের সময় ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে সেনা।
সেনার এই অন্যায় নির্দেশ মানতে অস্বীকার করায় শাস্তিস্বরূপ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হচ্ছে।
সেনার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও এনেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন কিছু ভিডিও প্রমাণ রয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে চাপের মুখে ছেড়ে দেওয়া জঙ্গিদের পুনর্বাসন দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
বান্নু পুলিশ পিস কমিটি জানিয়েছে, কাউন্টার-টেররিজম অভিযানে পুলিশের ভূমিকা দুর্বল করতেই এই বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
‘ঘরের লোক’ ও ডাবল গেম (Khyber Pakhtunkhwa Clash)
এই সংঘাত খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে পুরোনো শত্রুতাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রাদেশিক নেতারা বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী এই সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে।
গত বছর খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গন্ডাপুর প্রকাশ্যেই মিলিটারি-ইন্টেলিজেন্স এস্টাবলিশমেন্ট এবং আইএসআই (ISI)-এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কিছু বন্দি প্রকৃতপক্ষে সেনার “নিজের লোক” হওয়ায় তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। তথাকথিত “ভালো তালেবান” (Good Taliban) ব্যবহারের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় কাজে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সঙ্গে পাক সামরিক বাহিনীর বহুদিনের বিতর্কিত সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রদেশে একের পর এক হামলা চালানো সত্ত্বেও, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এই গোষ্ঠীগুলিকে সামরিক বাহিনী কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠে গেল।



