Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ভরছে নানা মিমে। কেউ লিখছে “কলকাতা নাকি ভেনিস”, কেউ করছে তুলনা “ঘাটাল”-এর সঙ্গে (Kolkata)। এমনভাবে অনেকে মজা করছেন, যেন শহরের এই দুঃসহ অবস্থা তাদের কাছে এক ধরনের বিনোদন। অথচ যাঁরা এই মিম বানাচ্ছেন বা শেয়ার করছেন, তাঁদের দেখে করুণা হয়। কারণ, মানুষের দুঃখ–কষ্ট নিয়ে হাসাহাসি করতে পারা আসলে মনুষ্যত্ব হারানোরই নামান্তর মাত্র।

নিজের শহরে বিদ্রূপ (Kolkata)
কিছুদিন আগেই উত্তরাখণ্ড, মুম্বই, রাজস্থান, গুজরাটে বন্যা আর মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়েছিল। তখন এঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সহানুভূতি জানাতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু আজ কলকাতার দুর্দশা দেখে তাঁদের আনন্দ হচ্ছে! এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা আর কী হতে পারে?
সরকারের ব্যর্থতা ও নাগরিক দায়িত্ব? (Kolkata)
কলকাতা কর্পোরেশন এবং রাজ্য সরকারের নানা ব্যর্থতা আছে এমনটা সাধারণ মানুষ মনে করেন। দুর্নীতি, কাটমানি, পরিকল্পনার অভাব—সবই রয়েছে। কিন্তু কেবল সরকারকে দায়ী করলেই হবে না। সাধারণ মানুষও কি দোষী নই? রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে প্লাস্টিক ফেলা, খাবারের প্যাকেট ছুঁড়ে দেওয়া, বোতল ফেলে দেওয়া… এসব তো তারাও করে। এমনকি শহরে ডাস্টবিন পর্যন্ত চুরি হয়ে যায়। ফলে নর্দমা আটকে জল জমা তো হবেই। এটাই স্বাভাবিক নয় কি?

পৌরকর্মীদের জীবনও ঝুঁকিতে (Kolkata)
প্রতিদিন সকালে পৌরসভার কর্মীরা রাস্তাঘাট পরিষ্কার করতে আসেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহরে তাঁরাও কাজে নামতে পারেননি। কারণ তাঁদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ার কথাকথিত আঁতেলরা দাঁত বের করে মিম শেয়ার করছে। এনাদেরও বোঝা উচিত, এই কর্মীরাও মানুষ, তাঁদের জীবনও সমান মূল্যবান।
ডেলিভারি বয়দের অবস্থা! (Kolkata)
খবর সূত্রে জানা যায়, আজ সকালেই একজন ই-কমার্স ডেলিভারি বয় জানালেন, বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে ১৪০টিরও বেশি পার্সেল ডেলিভারি করতে হবে। আগামীকাল সংখ্যাটা আরও বাড়বে। প্রতিটি ডেলিভারিতে তিনি পান মাত্র ১৫-২০ টাকা। দিনে গড়ে ২০০ পার্সেল মানে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা আয়। এই আয়ের পিছনেই তাঁর সংসার, সন্তানের ভবিষ্যৎ। আমরা যেখানে পুজোয় মজা করব, সেখানে তাঁরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: Kolkata Todays Weather: কলকাতার আকাশ মেঘলা, আসছে কি নতুন নিম্নচাপের প্রভাব!

জীবনের দাম কত কম! (Kolkata)
আজ সকালেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক সবজি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। এমন কত মানুষ আজ আর বাড়ি ফিরবেন না। কারও বাবা, কারও ভাই, কারও মা, বাবা, দাদা… শহরের জলমগ্ন অবস্থাই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। অথচ ঘরে বসে আমরা নিরাপদে আছি বলে এই বিপদকে নিয়ে মজা করছি! এটা কি সভ্য সমাজের লক্ষণ?

সুস্থ শহর আপনার হাতে
কলকাতাকে ‘ভেনিস’ বা ‘ঘাটাল’ বলার আগে শহরের জন্য কিছু করার কথা ভেবে দেখা উচিত। হেল্পলাইন নম্বর শেয়ার করা উচিত, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। অন্তত রাস্তায় আবর্জনা ফেলবেন না।



