Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে আবারও আয়োজিত হতে চলেছে ‘একুশের বইমেলা’ (Kolkata)। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়-রিজেন্ট এস্টেট সংলগ্ন বাঘাযতীনের লায়েলকা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এই বইমেলা। আয়োজক “Kolkata Creative Publishers Welfare Association“। এবারের মূল থিম ‘আক্রান্ত আমার ভাষা’। পাশাপাশি উচ্চারিত হচ্ছে আর এক স্লোগান ‘অস্ত্র নয়, অক্ষর আমাদের হাতিয়ার’। বর্তমান সময়ে ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই বইমেলা কেবল সাহিত্য-উৎসব নয়, এক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।

ভাষা আন্দোলনের স্মরণে বাহান্ন শিল্পীর সৃষ্টি-শিবির (Kolkata)
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছে ‘বাহান্ন শিল্পীর সৃষ্টি-শিবির’ (Kolkata)। ২১ ফেব্রুয়ারি শুভ উদ্বোধনের পর ২২ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ছয় দিন ধরে চলবে শিল্পশিবির। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মাননীয় অগ্রজ শিল্পীদের পাশাপাশি নবীন ও শিক্ষার্থী শিল্পীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিল্পীদের জন্য থাকছে—
- সাজানো উন্মুক্ত স্থান
- প্রয়োজনীয় চেয়ার ও টেবিল
- প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর জন্য একটি ক্যানভাস, রং ও ৫০০ টাকা সাম্মানিক
- দুপুরের আহার ও চা
- মেলার শেষ তিন দিন মাঠে প্রদর্শনী
- পরবর্তীতে কলকাতার একটি আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শনী ও বহুরঙ সংকলন প্রকাশ
- বিক্রিত ছবির অর্থ থেকে খরচ বাদ দিয়ে ৫০ শতাংশ শিল্পীকে প্রদান
- ছবির মালিকানা থাকবে আয়োজক সংস্থার
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগকে শিল্পের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কবীর সুমন সমাজ মাধমে লেখেন,
“একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে পয়লা মার্চ কলকাতার বাঘা যতীন বাস স্ট্যান্ডের কাজে রিজেন্ট এস্টেটের লায়েলকা মাঠে একুশের বইমেলা। মেলার থিম : আক্রান্ত আমার ভাষা — আক্রান্ত বাংলা ভাষা। কে করবেন এই মেলার উদ্বোধন। কে উঠে দাঁড়াবেন লন্ঠন হাতে? কে মেলাবেন সাধারণ আর বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষের দুই দলকে? শ্রমিক আর লেখকের মিলিত মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন কে? উঠে দাঁড়ালেন কবীর সুমন।
কবীর সুমন এই প্রথম কোনো বইমেলার উদ্বোধন করতে চলেছেন — একুশের বইমেলার। একুশের চেতনা ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে, ভারতীয় উপমহাদেশের বহুত্ববাদী ধারণাকে সামনে রেখে, ভাষিক-সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।
আক্রান্ত আমার ভাষা — এটাই সময় রুখে দাঁড়ানোর। বিভেদের বিরুদ্ধে। যেকোনোরকম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এখনই সময় কবিতার মিছিলে পরিযায়ী শ্রমিকের ছবি আঁকার। এখনই সময়।
প্রিয় কবীর সুমন কৃতজ্ঞতা জানবেন।”

শতাধিক প্রকাশনার অংশগ্রহণ (Kolkata)
প্রায় ১০০টি প্রকাশনা ও লিটল ম্যাগাজিন এই বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিন থাকছে আলোচনা, কবিতাপাঠ, গল্পপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা তথা ভারতের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সমাজবিদ, অর্থনীতিবিদ ও জনজীবনের নানা ক্ষেত্রের গুণীজনেরা অংশ নেবেন বিভিন্ন পর্বে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিক ও এসআইআর-বিদ্ধ বিশিষ্ট মানুষেরাও আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে বইমেলা হয়ে উঠছে সামাজিক বাস্তবতার সরাসরি প্রতিফলন।
উদ্বোধন ও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ (Kolkata)
২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটেয় বইমেলার উদ্বোধন করবেন নাগরিক কবিয়াল কবীর সুমন। উপস্থিত থাকবেন মাননীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সুজিত বসু এবং ব্রাত্য বসু। পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজবিদ ও প্রাক্তন আরএসএস নেতা পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভারতের বহুত্ববাদের সংকট নিয়ে বক্তব্য রাখবেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশংকর আইয়ার, বিশিষ্ট গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এবং তন্ময় ঘোষ।

আরও পড়ুন: Book Fair: আন্তর্জাতিক বইমেলার রেশ কাটতেই ‘একুশের বইমেলা’
অক্ষরের শক্তিতে ঐক্যের ডাক
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বইমেলা কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান। যখন বাংলা ভাষা ও ভাষাভাষীদের উপর বিভিন্ন প্রান্তে আঘাতের অভিযোগ উঠছে, তখন বইমেলা হয়ে উঠছে আত্মপরিচয়ের পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্র। এখানে বই কেনা-বেচার বাইরে রয়েছে আলোচনা, মতবিনিময় ও সামাজিক প্রশ্নে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ। ‘আক্রান্ত আমার ভাষা’ এই উচ্চারণ যেন কেবল স্লোগান নয়, সময়ের দাবি।



