Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আচমকা রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা (Kolkata Police)। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন আসন্ন হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এক কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে।

ভোটের আগে প্রশাসনিক ঝাঁকুনি (Kolkata Police)
দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় বড়সড় রদবদল করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া পরিবর্তন ঘটেছে ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত কালীঘাট থানায়। এই কেন্দ্রেই প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলে এই বদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, কালীঘাট, আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানায় নতুন অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এক মাসেই দ্বিতীয়বার ওসি বদল (Kolkata Police)
সবচেয়ে বেশি চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে কালীঘাট থানা। মাত্র এক মাস আগে, ২৯ মার্চ, লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে এখানে ওসি হিসেবে আনা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের গৌতম দাস। পাশাপাশি, থানার অতিরিক্ত ওসি পদেও পরিবর্তন এসেছে এই দায়িত্বে আসছেন উত্তম পাইক। এক মাসের মধ্যে একই থানায় দু’বার ওসি বদল হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনিক মহলে।
আলিপুর ও উল্টোডাঙাতেও পরিবর্তন (Kolkata Police)
শুধু কালীঘাট নয়, শহরের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানাতেও রদবদল ঘটানো হয়েছে, আলিপুর থানা: নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুব্রত পাণ্ডে, উল্টোডাঙা মহিলা থানা: দায়িত্বে এসেছেন চামেলি মুখোপাধ্যায়, যিনি আগে আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি ছিলেন এই পরিবর্তনগুলি একসঙ্গে ঘটানোয় স্পষ্ট, কমিশন শহরের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে ভোটের আগে।
ভবানীপুরে হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের প্রভাব? (Kolkata Police)
আগামী ২৯ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, কারণ এখানে সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচন ২০২১-এর স্মৃতি এখনও তাজা। সেই প্রেক্ষাপটে ভবানীপুরের এই লড়াইকে অনেকেই “রিম্যাচ” হিসেবে দেখছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এই বদলির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য একটাই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখা।
আরও পড়ুন: Noapara Blast: শেষ দফা ভোটের আগে উত্তেজনা, বোমা বিস্ফোরণে কাঁপল নোয়াপাড়া!

নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা
ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে কড়াকড়ি শুরু করেছে। একাধিক আইপিএস অফিসার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যাঁদের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, তাঁরা ভোট মেটা পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো রকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না এই বার্তা থেকে পরিষ্কার, কমিশন এবার ভোট প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ নজরদারির মধ্যে রাখতে বদ্ধপরিকর।



