Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীত মানেই বাংলার সকালের কুয়াশা, গায়ে হালকা শিরশিরে ঠান্ডা আর দুপুরে নরম রোদ এই পরিচিত অনুভূতিই যেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে (Kolkata Weather)। মাঘের মাঝামাঝি দাঁড়িয়েও মহানগর কলকাতা এবং রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে শীতের আমেজ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। সম্প্রতি শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

শীতের স্বাভাবিকতা ভেঙে গেল (Kolkata Weather)
২০ ডিসেম্বরের পর টানা ৩৭ দিন পেরিয়ে সোমবার শেষ রাতে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠে গেল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরের রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি। অর্থাৎ শীতের মরশুমে দাঁড়িয়েও কলকাতার রাত কার্যত বসন্তের মতো আচরণ করছে। শুধু কলকাতা নয়, এ দিন রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ রাত কাটিয়েছেন সল্টলেকের বাসিন্দারা। সেখানে রাতের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে এ কি তবে শীতের বিদায় ঘণ্টা?

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব (Kolkata Weather)
আবহবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার মূল কারণ দেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে পর পর পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সক্রিয়তা। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকায় এর জেরে বৃষ্টি ও তুষারপাত চললেও, সেই ঝঞ্ঝাই বাংলার ক্ষেত্রে বিপরীত প্রভাব ফেলছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা বা ‘উত্তুরে’ হাওয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। ফলস্বরূপ, বাংলায় নতুন করে শীত পড়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন আবহবিদরা। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারির আশপাশে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকতে পারে, যার প্রভাবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে দিন ও রাত দুইয়েরই তাপমাত্রা আরও বাড়বে।
উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ (Kolkata Weather)
যদিও গোটা রাজ্যেই শীতের দাপট কমেছে, তবু উত্তরবঙ্গ এখনও দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় কিছুটা বেশি ঠান্ডা অনুভব করছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্বত্য দার্জিলিংয়ে রাতের তাপমাত্রা নেমেছে ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে দার্জিলিং বাদ দিলে রাজ্যের অন্য কোনও এলাকাতেই তাপমাত্রা আর সিঙ্গল ডিজিটে নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কয়েক দিন আগেই রাজ্যের প্রায় সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিঙ্গল ডিজিট ছেড়ে ডবল ডিজিটে পৌঁছে গিয়েছিল। এই প্রবণতা জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বল্পমেয়াদি ঠান্ডা, ফের উষ্ণতার প্রত্যাবর্তন (Kolkata Weather)
সরস্বতী পুজোর সময় এবং তার পরের একদিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের রাতের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। যদিও এখনও পাখা চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবু দিনের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব শিগগিরই বিনা পাখায় থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহবিদরা।

আরও পড়ুন: Ajit Pawar: মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, মৃত উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার
কুয়াশার পূর্বাভাস
ঠান্ডার প্রকোপ কমলেও কুয়াশার সম্ভাবনা একেবারে উড়ে যাচ্ছে না। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কলকাতা-সহ অন্যান্য জেলায় সকালের দিকে হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা প্রবল। এই কুয়াশা যান চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।



