Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুরাণে কুমারী পুজোর স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় (Kumari Pooja)। শাস্ত্র অনুসারে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকেই পুজো করার বিধান রয়েছে। এ পুজোর মাধ্যমে দেবী শক্তির প্রতীকী রূপে কুমারী কন্যাকে আরাধনা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছিলেন “শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ ঘটে। “

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Kumari Pooja)
১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ প্রথমবার বেলুড় মঠে নয় কুমারীকে পূজা করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর অষ্টমী তিথিতে সেখানে মহাধুমধামের সঙ্গে কুমারী পুজো পালিত হয়। আজও সেই প্রথা অব্যাহত, যা কোটি ভক্তকে আকর্ষণ করে।
কেন হয় কুমারী পুজো? (Kumari Pooja)
প্রাচীন যুগে মুনি-ঋষিরা প্রকৃতিকে দেবী রূপে কল্পনা করে পূজা করতেন। প্রকৃতি মানেই নারী, আর সেই নারীত্বেরই নির্দোষ ও পবিত্র প্রতীক হল কুমারী কন্যা। বিশ্বাস ছিল, মানুষের মধ্যে ঈশ্বরচৈতন্য রয়েছে। তবে নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী কুমারীর মধ্যেই দেবীশক্তির প্রকাশ বেশি দৃশ্যমান। তাই কুমারীকে দেবী রূপে পূজা করার প্রচলন শুরু হয়।

ভিন্ন বয়সে ভিন্ন নাম (Kumari Pooja)
শাস্ত্রে বয়স অনুযায়ী কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করার নিয়ম রয়েছে। যেমন—
- ১ বছরের কন্যা : সন্ধ্যা
- ৭ বছরের কন্যা : মালিনী
- ১২ বছরের কন্যা : ভৈরবী
- ১৬ বছরের কন্যা : অম্বিকা
এই নামকরণ কুমারীর প্রতিটি বয়সকে দেবী শক্তির একেকটি রূপ হিসেবে প্রতিফলিত করে।
কুমারী পুজোর আচারবিধি (Kumari Pooja)
পুজোর আগে নির্বাচিত কুমারীকে নতুন বস্ত্র, ফুলের মালা, মুকুটে সাজানো হয়। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর ও তিলক দিয়ে দেবীরূপে অলঙ্কৃত করা হয়। কুমারীকে আসনে বসিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আরতি ও পুজো সম্পন্ন হয়। শাস্ত্রমতে, কুমারী পুজো ছাড়া দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না।
মহাভারতে কুমারী পুজো (Kumari Pooja)
মহাভারতের বিভিন্ন অধ্যায়ে কুমারী পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্জুন ভদ্রকালীর বন্দনা করেছিলেন, তেমনই কুমারী পুজোও করেছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় যে এই আচার মহাভারতীয় যুগ থেকেই প্রচলিত। কামাখ্যা, নেপাল, মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দির, কন্যাকুমারী ভারতের নানা প্রান্তে আজও এই পুজো মহাসমারোহে পালিত হয়।
আরও পড়ুন: Durga Puja : সাউন্ড সিস্টেমের ভিড়ে ঢাক কি টিকে থাকবে তার ঐতিহ্য নিয়ে?
কোলাসুর বধ ও কুমারী পুজোর উৎপত্তি
শাস্ত্র অনুসারে, অসুররাজ কোলাসুর একসময় স্বর্গ ও মর্ত্যের অধিকার নিয়ে নেয়। বিপর্যস্ত দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হলে দেবী কুমারীরূপে জন্ম নিয়ে কোলাসুরকে বধ করেন। এই পৌরাণিক ঘটনাকেই কুমারী পুজোর সূচনা ধরা হয়। তাই দুর্গাপুজোতে কুমারী পূজার তাৎপর্য গভীর।



