Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : লেহ্তে সম্প্রতি এক শান্তিপূর্ণ বন্ধ রূপ নেয় সহিংসতায়, যেখানে চারজনের মৃত্যু হয় এবং ৭০ জনের বেশি আহত হন(Ladakh Unrest)। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এ। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্যই প্রতিবাদকারীদের উসকে দিয়েছিল।
সরকারের অভিযোগ (Ladakh Unrest)
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, ওয়াংচুকের “উসকানিমূলক মন্তব্য” এবং আরব বসন্ত ও নেপালের জেন জেড আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা স্থানীয় যুবকদের উত্তেজিত করেছে(Ladakh Unrest)। মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ তাঁর অনশন মঞ্চ থেকে বেরিয়ে একদল ভিড় বিজেপি কার্যালয় এবং জেলা পরিষদ দপ্তরে হামলা চালায়। পরে সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ও সরকারি সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (Ladakh Unrest)
১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক(Ladakh Unrest)। তাঁর দাবি ছিল— লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক এবং ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লেহ্ এপেক্স বডি (LAB) ও কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (KDA)-এর সঙ্গে কেন্দ্রের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির আলোচনাও চলছিল।
সরকার দাবি করেছে, এই আলোচনার ফলেই ইতিমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে— যেমন তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষণ ৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ শতাংশ করা, স্থানীয় পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা, ভোটি ও পুরগি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সরকারি চাকরির জন্য ১৮০০ পদ খোলা।

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : সোনালিদের বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভুল, পর্যবেক্ষণে জানান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী
ওয়াংচুকের এনজিওর লাইসেন্স বাতিল (Ladakh Unrest)
সরকার আরও বড় পদক্ষেপ নেয়(Ladakh Unrest)। বৃহস্পতিবার ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Students Educational and Cultural Movement of Ladakh (SECMOL)-এর বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স (FCRA) বাতিল করা হয়। অভিযোগ, সংস্থাটি একাধিক বিধি ভঙ্গ করেছে।
ওয়াংচুকের পাল্টা দাবি
গ্রেপ্তারের পর ওয়াংচুক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান(Ladakh Unrest)। তাঁর বক্তব্য, সরকার প্রকৃত সমস্যাকে এড়াতে ‘বলির পাঁঠা’ বানাতে চাইছে। তিনি বলেন, “এভাবে কারও ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া হলে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। এটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত
লেহ্তে (Leh) এখনও কারফিউ জারি আছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ফের সহিংসতা না ছড়ায়। আগামী ৬ অক্টোবর আবারও কেন্দ্র ও লাদাখের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা।
লাদাখের দাবির মূল সুর
২০১৯ সালে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীর থেকে আলাদা হয়ে সরাসরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয় লাদাখ(Ladakh Unrest)। প্রাথমিকভাবে সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জোরদার হয়েছে। ওয়াংচুকের নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলনই বর্তমানে লাদাখের রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


