Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী পূর্ণিমা মানেই আলোর উৎসব (Lakshmi Puja), পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোয় স্নাত রাত্রি আর মা লক্ষ্মীর আরাধনায় ভরে ওঠা প্রতিটি গৃহ। শারদ ঋতুর এই পূর্ণিমাকেই বলা হয় লক্ষ্মী পূর্ণিমা, কারণ এই দিনেই দেবী লক্ষ্মীর আগমন ঘটে মর্ত্যে। বিশ্বাস করা হয়, যিনি নিষ্ঠাভরে এই দিনে মা লক্ষ্মীর পুজো করেন, তাঁর ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্য নেমে আসে। পেঁচার পিঠে চড়ে মা লক্ষ্মী এই রাতেই আশীর্বাদ বর্ষণ করেন গৃহস্থের ঘরে।

লক্ষ্মী দেবীর বাহন কেন সাদা পেঁচা? (Lakshmi Puja)
হিন্দু ধর্মে প্রত্যেক দেবদেবীরই একটি নিজস্ব বাহন আছে। যেমন: মা দুর্গার বাহন সিংহ, সরস্বতীর রাজহাঁস, কার্তিকের ময়ূর, গণেশের ইঁদুর। ঠিক তেমনই, মা লক্ষ্মীর বাহন হলো সাদা পেঁচা। এই পেঁচাকেই তাই অনেকে ‘লক্ষ্মী পেঁচা’ নামে অভিহিত করেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে অন্য কোনো প্রাণীর বদলে কেন পেঁচাকেই নিজের বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মা লক্ষ্মী? উত্তরটি লুকিয়ে আছে পুরাণ ও লোককথায়।

পুরাণে পেঁচার প্রতীক (Lakshmi Puja)
পেঁচা প্রকৃতিগতভাবে নিশাচর প্রাণী। দিনে সে বিশ্রাম নেয়, আর রাতে নিরব অন্ধকারে উড়ে বেড়ায়। অনেকেই তাই তাকে অশুভ, অন্ধকার বা অজ্ঞানতার প্রতীক মনে করে এসেছে যুগ যুগ ধরে। কোথাও কোথাও এমন ধারণাও প্রচলিত যে, পেঁচার ডাক নাকি মৃত্যুর পূর্বাভাস বহন করে। কিন্তু লিঙ্গপুরাণে এই ধারণার বিপরীতে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সেখানে নারদ মুনি বলেছিলেন, মানস সরোবরের তীরে বসবাসকারী পেঁচাদের থেকে সঙ্গীত শিক্ষা নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, প্রাচীন যুগে পেঁচাকে কখনও অশুভ বা অজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়নি; বরং তার ছিল জ্ঞান ও সতর্কতার প্রতীকত্ব।
আলোর সন্ধানী নিশাচর (Lakshmi Puja)
শাস্ত্র অনুযায়ী পেঁচা কোনোভাবেই অশুভ নয়। তার রয়েছে এমন এক বিশেষ ক্ষমতা ঘন অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখতে পাওয়া। তাই শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, পেঁচা প্রতীক হয়ে উঠেছে দিব্যদৃষ্টি ও জ্ঞানের আলোক এর। অন্ধকারের অন্তরালে থেকেও আলোর সন্ধান করে যে প্রাণী, তার মধ্যেই তো লুকিয়ে আছে জ্ঞানের সত্য অর্থ। আর এই কারণেই পেঁচাকে বলা হয় জাগ্রত বোধের প্রতীক।
আরও পড়ুন: Jhargram Lakshmi Puja: পাঁচ দিনের লক্ষ্মী-সরস্বতী আরাধনা! জিলিপির রাজ্যও বলা হয় এই গ্রামকে

লোককথায় লক্ষ্মী ও পেঁচার বন্ধন (Lakshmi Puja)
লোককথায় বলা হয়, সৃষ্টির আদিকালে যখন দেবতারা মর্ত্যে অবতীর্ণ হলেন, তখন তাঁদের ছিল না কোনো বাহন। সেইসময় নানা প্রাণীকুল দেবতাদের বাহন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল। তখন মা লক্ষ্মী ঘোষণা করলেন, “আগামী কার্তিক অমাবস্যার রাতে যে প্রাণী সবার আগে আমার কাছে উপস্থিত হবে, তাকেই আমি আমার বাহন হিসেবে গ্রহণ করব।” সেই বিশেষ রাতে, যখন গোটা পৃথিবী অন্ধকারে আচ্ছন্ন, প্রায় সব প্রাণী গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেলেও জেগে ছিল কয়েকটি নিশাচর প্রাণী। তাদের মধ্যে পেঁচাই ছিল সর্বাধিক সতর্ক। অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে পেঁচার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বহুদূর থেকে দেখতে পেল দেবী লক্ষ্মীকে। সে উড়ে গিয়ে প্রথমেই দেবীর পদপ্রান্তে উপস্থিত হয়। তাতেই দেবী তুষ্ট হয়ে পেঁচাকেই নিজের চিরসঙ্গী ও বাহন হিসেবে মনোনীত করেন।



