Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চতুর্থ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে (Iran)। আঞ্চলিক সংঘাত ক্রমশ বহু রাষ্ট্রকে জড়িয়ে এক বিস্তৃত সামরিক ও কূটনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। রাজধানী শহরগুলিতে পরপর বিস্ফোরণ, পালটা হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ।

তেহরানে ইজরায়েলের হামলা (Iran)
মঙ্গলবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান-এ পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে শহর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই একাধিক স্থানে বোমাবর্ষণ করা হয়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। যদিও হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবু এই হামলা যে পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক ছিল, তা স্পষ্ট। ইজরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি এই হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো।
হেজবোল্লা ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু (Iran)
একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বেইরুট-এও ইজরায়েলি বাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে। জানা যাচ্ছে, ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হেজবোল্লা-র ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে গোলাবর্ষণ করা হয়। হামলার পর শহরের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত এখন আর কেবল ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা লেবাননকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে।

ইরানের পালটা আঘাত (Iran)
ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে টার্গেট করেছে। কুয়েত, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। বিশেষ করে বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড়সড় আক্রমণের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ ইসা অঞ্চলের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রায় ২০টি বিমান ও তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি, তবে স্পষ্ট যে সংঘাত এখন সরাসরি মার্কিন স্বার্থের উপর আঘাত হানছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি (Iran)
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশাল-এ তিনি লেখেন, “আমাদের কাছে সীমাহীন অস্ত্রের মজুত রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জারি রাখতে আমরা প্রস্তুত।” এই মন্তব্য স্পষ্টতই ইরানের উদ্দেশে সতর্কবার্তা। একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অ-জরুরি মার্কিন নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু করেছে ওয়াশিংটন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আমেরিকাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
খামেনেই-পরবর্তী প্রতিশোধ ও যুদ্ধের বিস্তার
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-এর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী পর্যায়ে আবু ধাবি, দোহা ও মানামার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যদিও বহু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি, তবে তাদের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়েই বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করছে।



