Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে সমাজে যেমন বিতর্ক আছে (Live in Relationship Rights), তেমনই এই সম্পর্কের আইনি ও সামাজিক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বারবার। এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের অধিকারের বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনও নারীকে শুধু সঙ্গী হিসেবে নয়, প্রয়োজনে স্ত্রীর মর্যাদাও দেওয়া উচিত।
আগাম জামিন মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য (Live in Relationship Rights)
মাদুরাই বেঞ্চে এক আগাম জামিন মামলার শুনানিতে এই (Live in Relationship Rights) মন্তব্য করেন বিচারপতি এস শ্রীমথি। তিরুচিলাপল্লির এক ব্যক্তি আদালতে আবেদন করেছিলেন, তাঁর আশঙ্কা ছিল-লিভ-ইন সঙ্গীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সহবাসে ছিলেন, কিন্তু পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।

লিভ-ইন সম্পর্কে নিশ্চয়তা (Live in Relationship Rights)
এই প্রেক্ষিতেই বিচারপতি বলেন, আধুনিকতার আড়ালে লিভ-ইন সম্পর্ক (Live in Relationship Rights) অনেক সময় মহিলাদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। অনেক নারী বিশ্বাস করে এই সম্পর্কে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। বিয়ে যেখানে একটি স্বীকৃত কাঠামো ও অধিকার দেয়, সেখানে লিভ-ইন সম্পর্কে সেই নিশ্চয়তা থাকে না।
গান্ধর্ব বিবাহ
আদালত প্রাচীন ভারতীয় বিবাহপ্রথার উল্লেখ করে জানায়, ধর্মশাস্ত্রে বর্ণিত আট ধরনের বিবাহের মধ্যে গান্ধর্ব বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এই বিবাহে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই; পারস্পরিক সম্মতি ও ভালোবাসাই মূল ভিত্তি। বিচারপতির মতে, বর্তমান যুগের লিভ-ইন সম্পর্ককে সেই গান্ধর্ব বিবাহের আলোকে দেখলে নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: Hypersexual Disorder: অতিরিক্ত কামনার তাড়নায় পাগল! দানা বাঁধছে অজানা রোগ?
বিচারপতি স্পষ্ট করেন, আইনের ফাঁক গলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নারীদের প্রতারিত করার প্রবণতা রুখতেই কঠোর অবস্থান জরুরি। শেষ পর্যন্ত আদালত ওই ব্যক্তির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এই রায় লিভ-ইন সম্পর্কে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিল।


