Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র ২০০ টাকার কাঠ চেরাইয়ের করাত এবং ১১০০ টাকার কালো প্লাস্টিক ও ফয়েল ব্যাগ এই সামান্য কিছু জিনিস দিয়েই পরিকল্পিত হয়েছিল এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড (Uttar Pradesh)। খুনের পর দেহাংশ টুকরো করে নালা ও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার ছকও ছিল নিখুঁত। কিন্তু খুনিরা বুঝতে পারেনি, কাটা হাতের একটি ছোট্ট ট্যাটুই ঘুরিয়ে দেবে পুরো তদন্তের মোড়। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কার্যত শিউরে উঠিয়েছে গোটা এলাকা।
নিখোঁজের অভিযোগ থেকেই শুরু তদন্ত (Uttar Pradesh)
ঘটনার সূত্রপাত ১৮ নভেম্বর। সম্ভলের চান্দৌসি এলাকার মহল্লা চুন্নির বাসিন্দা রুবি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে তাঁর স্বামী, ৩৮ বছর বয়সি রাহুল নিখোঁজ। প্রথমদিকে বিষয়টিকে সাধারণ নিখোঁজ মামলা হিসেবেই ধরে নেয় পুলিশ। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তদন্তকারীদের মনে। রাহুলের মোবাইল ফোন ১৮ নভেম্বর থেকেই বন্ধ এই তথ্য পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। নিখোঁজের ঘটনায় স্ত্রী রুবির বয়ানেও ধরা পড়তে থাকে অসঙ্গতি।
ড্রেন থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহাংশ (Uttar Pradesh)
নিখোঁজের প্রায় এক মাস পরে, ১৫ ডিসেম্বর সম্ভলের ঈদগাহ এলাকার কাছে একটি ড্রেন থেকে পচাগলা দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধড় পাওয়া গেলেও মুণ্ড, হাত ও পায়ের কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নেয়।দেহাংশ উদ্ধারের পর ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি মৃতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। ঠিক তখনই তদন্তে আসে এক চাঞ্চল্যকর সূত্র।
‘রাহুল’ লেখা ট্যাটুই সূত্র বদলে দিল সব
উদ্ধার হওয়া দেহাংশে ‘রাহুল’ লেখা একটি ট্যাটু নজরে আসে তদন্তকারীদের। এই ট্যাটুই কার্যত রহস্যভেদের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। পুলিশের ধারণা দৃঢ় হয় যে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ নিখোঁজ রাহুলেরই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দেহাংশ ও পোশাক দেখেও তা শনাক্ত করতে অস্বীকার করেন স্ত্রী রুবি। এই আচরণেই পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়।
কল ডিটেলস ঘেঁটে বিস্ফোরক তথ্য (Uttar Pradesh)
ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। পাশাপাশি রুবির মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা। সেখানেই সামনে আসে বিস্ফোরক তথ্য গত তিন মাসে রুবি তাঁর প্রেমিক গৌরবের সঙ্গে ১,১০০ বারেরও বেশি ফোনে কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, রুবির ফোনের গ্যালারিতেই পাওয়া যায় একই পোশাকে রাহুলের ছবি, যা তিনি দেহ উদ্ধারের সময় শনাক্ত করতে অস্বীকার করেছিলেন।
প্রকাশ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক (Uttar Pradesh)
একাধিক প্রমাণ হাতে আসতেই রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের প্রশ্নের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে সে। স্বীকার করে নেয় খুনের কথা, পাশাপাশি স্বীকার করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথাও। রুবির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রেমিক গৌরবের সহায়তায়ই রাহুলকে খুন করা হয়।

আরও পড়ুন: Daily Horoscope: সমঝে চলুন আজ, নাহলেই সব শেষ…
পরিকল্পিতভাবে খুন ও দেহ লোপাট
সূত্রের খবর, পুলিশ জানিয়েছে, রুবিই গৌরবকে বাড়িতে ডেকে পাঠায়। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে রাহুলকে খুন করা হয়। খুনের পর দেহ লোপাটের পুরো পরিকল্পনাটিও ছিল রুবির মাথা থেকেই। কাঠ কাটার করাত দিয়ে দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। রক্ত চুঁইয়ে পড়া আটকাতে কালো প্লাস্টিক ও ফয়েল ব্যাগে ভরে আলাদা আলাদা করে মুণ্ড, ধড়, হাত ও পা প্যাক করা হয়।
খুনের পর গাড়ি ভাড়া করে সম্ভলের বিভিন্ন নালা ও নির্জন এলাকায় দেহাংশ ফেলে আসে রুবি ও গৌরব। তাদের ধারণা ছিল, দেহাংশ ছড়িয়ে দিলে কোনওদিনই পুরো রহস্য প্রকাশ্যে আসবে না। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রুবি ও তার প্রেমিক গৌরব দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে সম্ভল পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।



