Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত বিশেষ করে ইরান (LPG), ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–কে ঘিরে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা জ্বালানি বাজারকেই প্রভাবিত করছে না, তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে মানুষের জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তেও। ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ার জেরে মহারাষ্ট্রের পুনেতে অবস্থিত বৃহত্তম গ্যাসচালিত শ্মশান বৈকুণ্ঠ ধাম–এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কেবল অর্থনীতি বা শিল্পক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না এটি সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে।

পুনের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান (LPG)
পুনে শহরের নাভিপেঠ এলাকায় প্রায় ১৭ একর জমির উপর বিস্তৃত বৈকুণ্ঠ ধাম শ্মশান বহু বছর ধরে শহরের অন্যতম প্রধান দাহস্থল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে গ্যাসচালিত চুল্লির মাধ্যমে মৃতদেহ দাহ করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে দ্রুত, পরিবেশবান্ধব এবং কাঠের ব্যবহার কমায়। প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০টি শবদেহ এখানে দাহ করা হয়। ফলে শহরের বহু মানুষের কাছে এই শ্মশান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদান করে। এই শ্মশানে তিনটি গ্যাসচালিত চুল্লি এবং পাঁচটি বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে। সাধারণত গ্যাসচালিত চুল্লিগুলিই বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এতে সময় কম লাগে এবং দূষণও তুলনামূলকভাবে কম হয়।
এলপিজি সঙ্কটের মূল কারণ (LPG)
গ্যাসচালিত শ্মশানগুলিতে ব্যবহৃত জ্বালানি মূলত লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি। এলপিজি প্রধানত দুই ধরনের হাইড্রোকার্বন প্রোপেন এবং বিউটেন দিয়ে তৈরি। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তার কারণে এলপিজির উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ পড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাসের জোগানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক গত ৫ মার্চ একটি নির্দেশ জারি করে জানায় যে প্রোপেন ও বিউটেন এখন মূলত গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস তৈরির জন্য ব্যবহার করা হবে। ফলে অন্যান্য ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শ্মশানের গ্যাসচালিত চুল্লিতে এই জ্বালানির ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

পুনে পুরসভার সিদ্ধান্ত (LPG)
কেন্দ্রের নির্দেশ মেনেপুনে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত শহরের গ্যাসচালিত শ্মশানগুলির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে বৈকুণ্ঠ ধাম ছাড়াও শহরের অন্যান্য গ্যাসচালিত শ্মশানও রয়েছে। তবে যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা না হয়, সেই কারণে বিকল্প ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু রয়েছে, কাঠের মাধ্যমে দাহ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই ব্যবস্থার ফলে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে অনেক ক্ষেত্রেই অপেক্ষা ও অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে শ্মশানযাত্রীদের।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর (LPG)
গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় সরকার প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিক গ্যাসের ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়াতে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যাসের ব্যবহার ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করবে।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফোনেই নতুন রাজ্যপালের নাম! কেন বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী?
বৈশ্বিক থেকে ব্যক্তিগত
জ্বালানি সঙ্কটের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের উত্তাপ একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায়, অন্যদিকে তা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, রান্নার গ্যাস, পরিবহন এমনকি শেষকৃত্যের মতো সামাজিক আচারেও প্রভাব ফেলে। ভারতের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে জ্বালানির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দেখা দিলেই সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ পড়ে।



