Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশে দুই হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত (Bangladesh)। শুক্রবার নয়াদিল্লি জানায়, প্রতিবেশী দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার সন্ত্রাস নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
‘হত্যাকাণ্ডে ভারত বিচলিত’(Bangladesh)
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের(MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ভারত বিচলিত এবং এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সম্প্রতি এক হিন্দু যুবককে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রত্যাশা করি।”
ভারত ‘ভুয়ো বয়ান’ প্রত্যাখ্যান করল (Bangladesh)
বিদেশমন্ত্রক জানায়, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিষয়টি ভারত ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছে এবং বাংলাদেশ যে “ভুয়ো বয়ান” তুলে ধরছে বলে অভিযোগ, তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রকের দাবি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় ২,৯০০টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। “এই বিষয়ে আমরা আগেও একাধিক বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য খারিজ করেছি,” জানায় মন্ত্রক।
রাজবাড়িতে পিটিয়ে হত্যা: তোলাবাজির অভিযোগ
চলতি মাসে দুই হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনাটি রাজবাড়ী জেলায়, বুধবার গভীর রাতে। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম অমৃত মণ্ডল, ওরফে সম্রাট। পুলিশের দাবি, তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই হিংসা। সম্রাট নাকি ওই এলাকায় টাকা তুলতে গেলে গ্রামবাসীরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশের মতে, সম্রাটের বিরুদ্ধে খুনসহ একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি একটি তোলাবাজ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সম্রাট ও তার সঙ্গীরা শাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে টাকা তুলতে গেলে পরিবার ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করে, এরপরই লোকজন জড়ো হয়ে হামলা চালায়।
ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যা (Bangladesh)
এর কয়েকদিন আগেই ময়মনসিংহ জেলায় ২৭ বছরের পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, তার দেহ গাছে বেঁধে আগুন লাগানো হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার নিন্দা করে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, “নতুন বাংলাদেশে” সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও গণপিটুনির কোনও স্থান নেই।
আরও পড়ুন: Malaysia: ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ: দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
বিস্তৃত অস্থিরতার প্রেক্ষাপট (Bangladesh)
রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডগুলি ঘটেছে। জয়সওয়াল বলেন, “হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত নির্যাতন গভীর উদ্বেগের বিষয়।”



