Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে বহু যুদ্ধের কারণ ছিল ভূখণ্ড, তেল, মতাদর্শ কিংবা ক্ষমতার লড়াই (Donald Trump)। কিন্তু একবিংশ শতকের ভূ-রাজনীতিতে যদি একটি নাচের ভিডিও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ঠিক এই বাস্তবতাই সামনে এসেছে যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি ব্যঙ্গাত্মক নাচ ওয়াশিংটনের চোখে পরিণত হয় চূড়ান্ত উসকানিতে।

‘আইকনিক ডান্স’ থেকে আন্তর্জাতিক সংকট (Donald Trump)
ওয়াশিংটন ডিসির ট্রাম্প–কেনেডি সেন্টারে হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো তাঁর ‘আইকনিক র্যালি ডান্স’ নকল করে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি নিছক কৌতুক নয়, বরং একটি শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক বার্তা। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সেই ভিডিওতে দেখা যায় ‘No War, Yes Peace’ স্লোগানের সঙ্গে নাচছেন মাদুরো, ইংরেজি অডিওতে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে ‘No crazy war’। এই সম্প্রচার হয় ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে মার্কিন হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ মহলে এই ভিডিওকে মার্কিন হুঁশিয়ারিকে হালকা করে দেখানোর প্রয়াস হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়।

হোয়াইট হাউসের চোখে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ (Donald Trump)
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রশাসনের একাংশের মতে, মাদুরোর এই আচরণ প্রমাণ করেছিল যে তিনি আর মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই মনোভাব থেকেই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা দ্রুত এগোয়। কূটনৈতিক চাপ বা দীর্ঘ আলোচনার পথ বাদ দিয়ে সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের দিকেই হাঁটে ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত তার ফল হয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার।
ট্রাম্পের ভাষায় নৈতিকতা নয় (Donald Trump)
ট্রাম্পের বক্তব্যে লক্ষণীয় বিষয় হল তিনি কূটনৈতিক বা আন্তর্জাতিক আইনের যুক্তির বদলে বারবার ফিরে গিয়েছেন ব্যক্তিগত অপমানের প্রসঙ্গে। তাঁর কথায়, “ও উঠে দাঁড়িয়ে একটু করে আমার নাচ নকল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ও একজন হিংস্র লোক। সে লাখ লাখ মানুষকে মেরেছে।” এই মন্তব্যে নাচ ও সহিংসতা এক সুতোয় গাঁথা হয়ে যায় যেখানে রাজনৈতিক বিদ্রূপকেও সামরিক অপরাধের সমতুল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

‘প্রেসিডেনশিয়াল আচরণ’-এর বিতর্ক (Donald Trump)
এই বক্তব্যের মধ্যেই ট্রাম্প নিজের নাচ নিয়েও আত্মসমালোচনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বারবার তাঁকে বলেছেন এই ধরনের নাচ “প্রেসিডেনশিয়াল নয়”। ট্রাম্পের দাবি, তিনি মেলানিয়াকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সমর্থকেরা তাঁর কাছ থেকে এই আচরণই আশা করেন। কিন্তু মেলানিয়ার পাল্টা যুক্তি ছিল আরও তীক্ষ্ণ। তিনি নাকি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে কি কখনও নাচতে কল্পনা করা যায়?” এই ব্যক্তিগত কথোপকথন আসলে ক্ষমতার ভাষা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে আধুনিক রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা কি রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে?
আদালতে মাদুরো (Donald Trump)
এই সপ্তাহেই নিউ ইয়র্কে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নার্কো-টেররিজম ও কোকেন পাচারের অভিযোগে আদালতে তোলা হয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযানের ‘কৌশলগত সাফল্য’-র প্রশংসা করলেও তাঁর বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মাদুরোর ‘অপমানজনক আচরণ’। এতে প্রশ্ন ওঠে গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ কি আইনি অপরাধ, না কি রাজনৈতিক অবমাননা?

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ (Donald Trump)
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক রূপান্তর তদারক করবে যুক্তরাষ্ট্র, এবং এর কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। দেশের বিধ্বস্ত তেল সম্পদ পুনর্গঠনের দায়িত্বও কার্যত ওয়াশিংটনের হাতেই থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মাদুরোর অনুগত গোষ্ঠী বা উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তবে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া আসবে।
আরও পড়ুন: Thursday Horoscope: সৌভাগ্য ও শোভন যোগে ভাগ্য খুলছে কোন কোন রাশির?
‘পশ্চিম গোলার্ধে প্রশ্নাতীত আধিপত্য’
ট্রাম্পের ঘোষণার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি আসে শেষদিকে। তাঁর কথায়, “পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য আর কখনও প্রশ্নের মুখে পড়বে না।” এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলা সংকটকে শুধুমাত্র একটি আইনি বা সামরিক ইস্যু হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা, অপমান ও আধিপত্যের রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে তুলে ধরে।



