Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা জোট কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ বা কোয়াড–এর বার্ষিক শীর্ষবৈঠক এ বার নাও হতে পারে (Quad Summit)। সরকারি সূত্রের দাবি, নভেম্বরে দিল্লিতে নির্ধারিত বৈঠকটি আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। এর ফলে কোয়াডের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বছর বার্ষিক শীর্ষবৈঠক স্থগিত হতে পারে।
বাতিলের ইঙ্গিত দিল কূটনৈতিক মহল (Quad Summit)
বিদেশ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, কোয়াডের সদস্যদেশগুলির তরফে এখনও পর্যন্ত বৈঠক সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি (Quad Summit)। তাঁর কথায়, “যে সময় বাকি আছে, তাতে নভেম্বরে শীর্ষবৈঠক আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব।”
২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারে সর্বশেষ কোয়াড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিয়ো কিশিদা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিস উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই ঘোষণা করা হয়েছিল— এবার আয়োজনের দায়িত্ব ভারতের।
ট্রাম্পের নীতি বদলে কোয়াডে অনাগ্রহ? (Quad Summit)
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কোয়াড নিয়ে অনাগ্রহই এই স্থবিরতার মূল কারণ (Quad Summit)। চিনকে চাপে রাখতে ট্রাম্পই প্রথম মেয়াদে (২০১৬–২০) কোয়াডের পুনরুজ্জীবন ঘটান। কিন্তু এখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। ভারতের সঙ্গে চলা শুল্কসংঘাত ও জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ কমেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : কার্নিভালের দিন ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের
‘স্কোয়াড’ গঠনের পর কোয়াডে ছায়া (Quad Summit)
কোয়াডের পাশাপাশি গত বছর আমেরিকার নেতৃত্বে নতুন সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’ গঠিত হয়, যেখানে রয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপিন্স (Quad Summit)। প্রাথমিকভাবে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া হয়। অনেকের মতে, শুল্কযুদ্ধের পর নয়াদিল্লির প্রতি ট্রাম্পের ‘কৌশলগত আস্থা’ কমে যাওয়ার এটাই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের আগ্রাসন ঠেকাতেই আমেরিকা এখন ওই নতুন জোটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে কোয়াডকে কার্যত ছায়ায় ফেলে দিচ্ছে ‘স্কোয়াড’।
কোয়াডের শিকড় ও তার বর্তমান অবস্থান (Quad Summit)
২০০৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে কোয়াড গঠনের উদ্যোগ নেন (Quad Summit)। উদ্দেশ্য ছিল, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রোখা। তবে ২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই জোটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
২০১৬ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে কোয়াডকে নতুন প্রাণ দেন। তখন থেকেই ভারত, জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া যৌথ মহড়া, নিরাপত্তা বৈঠক এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে শক্তি বাড়াতে শুরু করে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে।
কোয়াডের ভবিষ্যৎ কী?
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনীহা কোয়াডকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, “গত চার বছরে কোয়াড দেশগুলি একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে (Quad Summit)। তারা ছোট স্বার্থ ভুলে একসঙ্গে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের পদক্ষেপ বাকি তিন সদস্য দেশের স্বার্থবিরোধী।”
তাঁদের আশঙ্কা, যদি এ বার শীর্ষবৈঠক সত্যিই না হয়, তা হলে কোয়াডের ‘ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বার্তা’ ভেঙে পড়তে পারে।
ভারতের জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ভারতের জন্য এটি এক কঠিন সময় (Quad Summit)। কারণ, কোয়াডের আয়োজক হিসেবেই নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রধান শক্তি হিসেবেও নয়াদিল্লির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিদেশ মন্ত্রক আপাতত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর নীতি নিয়েছে।
কোয়াডের শীর্ষবৈঠক বাতিল হলে তা শুধু একটি কূটনৈতিক রীতি ভাঙা নয়, বরং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতির এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। প্রশ্ন এখন একটাই— ট্রাম্প কি নিজের তৈরি জোটেরই অকালমৃত্যুর পথ তৈরি করছেন?


