Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের অন্যতম জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi Card)-তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল স্বাস্থ্য দপ্তর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ বার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিশার এবং আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের সুবিধা মিলবে। তবে সঙ্গে স্পষ্ট শর্ত বেসরকারি হাসপাতালে যুক্ত কোনও সরকারি চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে? এবং এর ফলে রোগীরা কতটা উপকৃত হবেন?

সরকারি হাসপাতালেই ছিল অগ্রাধিকার (Swasthya Sathi Card)
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালুর পর থেকেই নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রোপচার সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে করা যেত না। বিশেষ করে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল ও ফিশারের মতো তুলনামূলক সাধারণ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হত। স্বাস্থ্য দপ্তরের যুক্তি ছিল, সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও দক্ষ চিকিৎসকসবই পর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে রোগীদের সরকারি ব্যবস্থার মধ্যেই চিকিৎসা পাওয়ার কথা। শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন সরকারি হাসপাতাল লিখিতভাবে এনওসি দিলে তবেই বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় অস্ত্রোপচার করা যেত। আর্থ্রোস্কোপির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর ছিল। দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালে তা করা গেলেও, পরিকল্পিত বা ‘কোল্ড ওটি’ অস্ত্রোপচারের অনুমতি মিলত না।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও রোগীদের দুর্ভোগ (Swasthya Sathi Card)
কাগজে-কলমে সরকারি ব্যবস্থার সক্ষমতা থাকলেও বাস্তব চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও ‘ডেট’ পাওয়ার পরও নানা কারণে অস্ত্রোপচার পিছিয়ে যাচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে রোগীরা মাসের পর মাস যন্ত্রণায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ছিল দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষা সেই লক্ষ্যকে ব্যাহত করছিল।

চিকিৎসকদের ভূমিকা ও ওঠা অভিযোগ (Swasthya Sathi Card)
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে কিছু সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তাঁরা রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে সেখানেই অস্ত্রোপচার করছেন। এই অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, যদি শেষ পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার হয়, তবে সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ অপেক্ষার অর্থ কী? এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই স্বাস্থ্য দপ্তর কড়াকড়ির রাশ কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা: কী বলা হয়েছে? (Swasthya Sathi Card)
নতুন নির্দেশিকায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে, হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিশার ও আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রোপচার এখন সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে করা যাবে। সরকারি হাসপাতালের এনওসি আর বাধ্যতামূলক নয়। বেসরকারি হাসপাতালে যুক্ত সরকারি চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নিজস্ব শল্য চিকিৎসকরাই তা করতে পারবেন। এই শর্তের মাধ্যমে একদিকে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি চিকিৎসকদের দ্বৈত ভূমিকা বা স্বার্থসংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
রোগী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর প্রভাব
এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা কমবে। রোগীরা দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তর নজরদারি বজায় রাখবে বলেও সূত্রের খবর। কারণ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



