Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মালবাজার মহকুমার ডামডিম এলাকায় এক রক্তাক্ত (Malbazar Tragedy) ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানসিক অবসাদে ভোগা এক যুবক হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযুক্তের নাম শর্তাজ আনসারী। এই নৃশংস ঘটনার জেরে অভিযুক্ত-সহ মোট পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
আতঙ্কে ডামডিমের বিস্তীর্ণ এলাকা (Malbazar Tragedy)
ঘটনা ঘিরে আতঙ্কে ডামডিমের বিস্তীর্ণ (Malbazar Tragedy) এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলের দিকে হঠাৎই শর্তাজ আচমকা উত্তেজিত হয়ে মায়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সে ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে মা সালমা বেগমের ওপর চড়াও হয়। মা’কে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের দিকেও ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত।
দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Malbazar Tragedy)
চিৎকার শুনে প্রতিবেশী এমডি গোলাপ আনসারী (Malbazar Tragedy) ছুটে এসে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও এলোপাথারি কোপ মারে শর্তাজ। এতে গোলাপ আনসারী গুরুতরভাবে আহত হন। এলাকাবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম, গোলাপ আনসারী, পরিবারের আরও তিন সদস্য এবং অভিযুক্ত শর্তাজ আনসারী নিজেও। কারণ, স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাঁকে আটকানোর সময় কিছুটা মারধরও করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে মালবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশকর্তারা। প্রাথমিকভাবে অনুমান, মানসিক অবসাদ ও পারিবারিক অশান্তির জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন: Afghanistan: আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত পাকিস্তানের, বাড়ছে সীমান্ত উত্তেজনা
আহত প্রতিবেশী এমডি গোলাপ আনসারী জানান, “চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়েছিলাম। ভাবিনি, ও আমাকেও আক্রমণ করবে। কোনও কথা বলার সুযোগই দেয়নি, সরাসরি কোপ মেরেছে।” মালবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার প্রসাদ বলেন, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারটিকে সাহায্য করার জন্য প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের মানসিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা দরকার।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শর্তাজ আনসারী কিছুদিন ধরে অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং প্রায়ই একা একা কথা বলতেন। পরিবার তাঁকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।


