Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জীবনের আরও এক গৌরবময় অধ্যায় রচিত হল (Mamata Banerjee)। জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রদান করল সাম্মানিক ডক্টর অফ লেটারস (ডি-লিট) উপাধি। এই সম্মান তিনি পেয়েছেন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বিশেষত মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য। এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এমন মর্যাদা পেলেন।

সম্মান প্রদানের মুহূর্ত (Mamata Banerjee)
কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এই সম্মান তুলে দেন ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট নাসু ইয়াসুতোমো।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বিশেষত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
বাংলার সঙ্গে জাপানের বন্ধন (Mamata Banerjee)
ধন্যবাদ জ্ঞাপনের বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাপানের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক বহু পুরনো। স্বাধীনতার আগে রাসবিহারী বসু ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জাপানে গিয়ে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাধ্যমেও জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের গভীর যোগ রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বাংলার সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক আজও দৃঢ়। বর্তমানে জাপানের একাধিক সংস্থা যেমন মিৎসুবিসি ও হিতাচি ভারতের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। রাজ্যের ওয়েবেল (WEBEL) সংস্থাও জাপানি প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিজিবিএস থেকে ডি-লিটের প্রস্তাব (Mamata Banerjee)
ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS)-এ তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ, উন্নয়ন নীতি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর কর্মপ্রচেষ্টা তাঁদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এর পরই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি-লিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“মে মাসে জাপানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তখন যাওয়া সম্ভব হয়নি। তখন ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল, আমি না গেলে তারাই কলকাতায় আসবেন। এবার তাঁরা এসে যখন এত আন্তরিকভাবে সম্মান জানালেন, তখন আমি কীভাবে না বলি!” তিনি আরও বলেন, “এই সম্মান শুধুমাত্র আমার নয়, বাংলা ও বাংলার মানুষের জন্য এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।”

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: ডি লিট পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জাপান থেকে আসছে প্রতিনিধি দল
আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন সম্মান
ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট নাসু ইয়াসুতোমো বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনন্য। তাঁর এই মানবিক নেতৃত্বের জন্যই তাঁকে এশিয়ার প্রথম মহিলা হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।”



