Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক ভাষণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল ভারতীয় জনতা পার্টি(Mamata BJP EC)। গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি জমা দেয়।
অভিযোগের মূল কারণ (Mamata BJP EC)
বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন। চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে:
ময়নাগুড়ি (২৫ মার্চ): অভিযোগ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকদের বাড়ির সামনে “আমি বিজেপি করি না” লেখা পোস্টার ঝোলাতে বাধ্য করা হবে। বিজেপি একে ভোটারদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
নকশালবাড়ি ও পান্ডবেশ্বর (২৫ ও ২৬ মার্চ): এই দুই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের এবং সাধারণ মানুষকে “ঘরে যা আছে তাই নিয়ে বেরিয়ে পড়তে” এবং “প্রতিরোধ গড়তে” আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপির দাবি, এটি সরাসরি শারীরিক সংঘাতের ইঙ্গিত এবং নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা।
আইনি ধারা ও আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন
স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যগুলো নিম্নলিখিত আইন ও বিধির পরিপন্থী:
১. আদর্শ আচরণবিধি (MCC): জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে উত্তেজনা ছড়ানো এবং সরকারি পদের অপব্যবহার।
২. জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ (Section 125): নির্বাচনের সময় বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।
৩. ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩: ধারা ১৯৩ ও ৩৫৩ অনুযায়ী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং জনমনে অস্থিরতা তৈরি করা।
নির্বাচন কমিশনের কাছে বিজেপির দাবি (Mamata BJP EC)
বিজেপি নেতৃত্ব কমিশনের কাছে ছয়টি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন:
প্রচার থেকে বিরতি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্তমান নির্বাচনী প্রচার থেকে নিষিদ্ধ (Debar) করা।
আইনি পদক্ষেপ: তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করা।
কেন্দ্রীয় বাহিনী: স্পর্শকাতর এলাকায় পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা, কারণ স্থানীয় পুলিশ “নিষ্ক্রিয়” বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বহিরাগত পর্যবেক্ষক: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ বহির্ভূত আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা।
ফর্ম-৬ সংক্রান্ত জটিলতা: অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটার তালিকার জন্য ‘ফর্ম-৬’ জমা নিতে আধিকারিকরা অস্বীকার করছেন, যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: Officer Transfer Case: ভোটের মুখে কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল, কল্যাণের মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে
অভিযোগপত্রে বিজেপি নেতৃত্বের স্বাক্ষর (Mamata BJP EC)
এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, ডঃ মহেশ শর্মা, শিশির বাজোরিয়া এবং শশী অগ্নিহোত্রী। এখন নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।



