Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তিনি এখন নবতিপর, বয়স ৯১ (Manipur)। হাঁটতে গেলেও লাগে সহায়তা, হাত বাড়িয়ে দেন তরুণ কমরেডদের দিকে। বুধবার সেই বৃদ্ধ বিপ্লবী থুইঙ্গালেং মুইভা অবশেষে ফিরলেন নিজের মাটিতে, ৫০ বছর পর। পাহাড়ের উপত্যকায় ধুলো উড়িয়ে নামল হেলিকপ্টার। সেখান থেকে কোট-প্যান্ট-টাই-হ্যাটে সাহেব সেজে নামলেন মুইভা। তবে বেশিক্ষণ ‘সাহেব’ সেজে থাকা হলো না। অপেক্ষায় ছিলেন নাগা উপজাতির মানুষ, ঐতিহ্যবাহী সাজে, হাতে বল্লম। তাঁদের ভিড়ে মিশে গেলেন তিনিও। উপজাতীয় সাজসজ্জা পরে, হাতে বল্লম নিয়ে যেন ফিরে এলেন পুরনো মুইভা যাঁর নাম একসময় কাঁপিয়ে তুলেছিল গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত।
শৈশবের গ্রামে অবশেষে প্রত্যাবর্তন (Manipur)
মণিপুরের উখরুল জেলার সোমডাল গ্রামের এক তাংখুল নাগা পরিবারে জন্মেছিলেন থুইঙ্গালেং মুইভা। বহু দশক চেষ্টা করেও ফিরে যেতে পারেননি জন্মভূমিতে। অবশেষে এই দিন, শৈশবের সেই গ্রামে ফিরলেন তিনি। এই প্রত্যাবর্তন নাগা শান্তি আলোচনার পথকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০১০ সালে তিনি শেষবার সোমডালে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মণিপুরের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার রাজ্যে ঢোকার অনুমতি দেয়নি। তার জেরে সীমান্তে বিক্ষোভে প্রাণ হারান ছ’জন সমর্থক।
এক সময়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ বিপ্লবী (Manipur)
সত্তরের দশকে মণিপুরের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড ছিলেন মুইভা। তাঁর মাথার দাম ঘোষিত হয়েছিল এক লক্ষ টাকা। নাগা স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। কিন্তু মতবিরোধের জেরে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় NNC ছেড়ে দেন। এরপর ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে ইসাক চিশি সু ও এস এস খাপলাং-এর সঙ্গে মিলে গঠন করেন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড।
দুই ভাগে বিভক্ত বিদ্রোহী সংগঠন (Manipur)
পরবর্তীতে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দেয় সংগঠনের মধ্যে। ফলে NSCN ভেঙে যায় দুটি ভাগে,
- NSCN (IM) — ইসাক-মুইভা নেতৃত্বাধীন দল
- NSCN (K) — খাপলাং নেতৃত্বাধীন দল
১৯৯৭ সাল থেকে কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে আসছে NSCN (IM)। যদিও ইসাক বা খাপলাং, কেউই এখন আর জীবিত নন। ইসাক চিশি সু ২০১৬ সালের জুনে মারা যান দিল্লির এক হাসপাতালে। পরের বছর জুনে প্রয়াত হন খাপলাং। তবুও মুইভা ধরে রেখেছেন শান্তি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব।
শান্তি চুক্তির পথে মাইলফলক (Manipur)
২০১৫ সালে NSCN ও কেন্দ্র ঘোষণা করে যে একটি শান্তি চুক্তির কাঠামো গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে নাগা সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে। তারপরও, মুইভার মনে ছিল এক আক্ষেপ নিজের জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার। এবার সেই আক্ষেপও মিটল। কেন্দ্রের অনুমতিতে অবশেষে সোমডালে ফিরলেন তিনি।
আরও পড়ুন: Chinchura: গঙ্গার পাড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার তালিকা! কে ফেলল এই নথি?
নাগা শান্তির পথে আশার আলো
মণিপুরের সব সম্প্রদায়ই তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নাগা শান্তি আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় মুইভার শৈশবের গ্রামে ফেরা নিঃসন্দেহে এক প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ যা হয়তো পথের বাকি কাঁটাগুলিও সরিয়ে দেবে, শান্তি চুক্তির দিগন্ত আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।



