Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফের বড় সাফল্য নিরাপত্তা বাহিনীর (Mao Leader Surrender)। বুধবার ছত্তিসগড়-এর কাঁকের জেলায় আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেতা মল্লেশ। তাঁর মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এক সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়েই ছোটোবেথিয়া বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল-সহ আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এই ঘটনাকে বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
বস্তার ডিভিশন কমিটি (Mao Leader Surrender)
কাঁকের জেলার পুলিশ সুপার নিখিল রাখেচা (Mao Leader Surrender) জানিয়েছেন, মল্লেশ উত্তর বস্তার ডিভিশন কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই অবুঝমাড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন উত্তর বস্তার ডিভিশনেরই সদস্য রানু পডিয়াম। পুলিশের দাবি, সম্প্রতি বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। সরকারের পুনর্বাসন নীতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
মাওবাদী সংগঠনের কাঠামোয় বড় ধরনের ভাঙন (Mao Leader Surrender)
প্রসঙ্গত, গত রবিবারই আত্মসমর্পণ করেন শীর্ষ মাওবাদী (Mao Leader Surrender) নেতা থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে ‘দেবুজি’। তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। একই দিনে ওডিশা-র গঞ্জাম-কান্ধামাল সীমানা এলাকার কারাদা জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হন আরও দুই মাওবাদী নেতা— জাগেশ ও রশ্মি। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত এক বছরে বস্তার ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী সংগঠনের কাঠামোয় বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে। উল্লেখ্য, গত বছর অবুঝমাড় এলাকাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন শীর্ষ মাওবাদী নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু-সহ ২৭ জন মাওবাদী। সেই অভিযানের পর থেকেই এলাকায় সংগঠনের ভিত দুর্বল হতে শুরু করে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্প্রতি অসম-এ সিআরপিএফের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, মাওবাদী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিতভাবে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই এই সমস্যার অবসান ঘটবে।
আরও পড়ুন: IED Recover: বড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল সেনা-পুলিশ, পুঞ্চের গনি জঙ্গলে উদ্ধার শক্তিশালী আইইডি
পুলিশ সূত্রের খবর, মল্লেশের আত্মসমর্পণের পর তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্যও আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে পারেন। প্রশাসনের মতে, সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্প, নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযান এবং উন্নয়নমূলক কাজের জেরে বহু মাওবাদী সদস্য মূলস্রোতে ফিরতে আগ্রহী হচ্ছেন। নিরাপত্তা মহলের বক্তব্য, সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণ ও অভিযানের ধারাবাহিকতায় বস্তার-সহ মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। মল্লেশের আত্মসমর্পণ সেই পরিবর্তনেরই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।


