Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র তিরুপতি (Tirupati)। কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির কেন্দ্র এই স্থান। কিন্তু সেই তিরুপতিতেই সম্প্রতি ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা শুধু ভক্তদের মনেই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে শ্রী গোবিন্দরাজস্বামী মন্দিরের চূড়ায় উঠে বসেন এক ব্যক্তি আর তাতেই সামনে এসে পড়ে মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক দুর্বল দিক।

কীভাবে ঘটল এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা (Tirupati)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কুট্টাদি তিরুপতি (৪৫)। তিনি তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার কুরমাওয়াড়া এলাকার পেদ্দামল্লা রেড্ডি কলোনির বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মন্দির চত্বরে থাকা কাঠের তাঁবুর খুঁটি ব্যবহার করেই ধীরে ধীরে তিনি মন্দিরের গোপুরমে উঠে পড়েন। বিস্ময়ের বিষয়, দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসেনি। পরে এক নিরাপত্তারক্ষীর চোখে পড়তেই শুরু হয় চাঞ্চল্য।
তিন ঘণ্টার নাটকীয় পরিস্থিতি (Tirupati)
ঘটনা ধরা পড়ার পর দ্রুত পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তকে নিরাপদে নামিয়ে আনা সহজ ছিল না। মন্দিরের চূড়ায় বসে তিনি বারবার চিৎকার করতে থাকেন এবং নিচে নামতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, তিনি নেমে আসার শর্ত হিসেবে আরও একটি মদের বোতল দাবি করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে বোঝানোর পালা। ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মন্দির চত্বর জুড়ে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে তাঁর দাবিতে সম্মতির আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি চূড়া থেকে নামতে রাজি হন। নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিরুপতি পূর্ব থানায় নিয়ে যায়।

প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের দিক (Tirupati)
তিরুপতি (পূর্ব)-এর ডেপুটি পুলিশ সুপার এম ভক্তবৎসলম নাইডু জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মন্দিরের কাঠামোর কোনও ক্ষতি করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এত বড় নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় মন্দিরের চূড়ায় উঠতে পারলেন? এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এটি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নজরদারির ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ।
রাজনৈতিক তরজা ও বিতর্ক (Tirupati)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, তিরুপতিকে ধীরে ধীরে ‘লিকার হাব’-এ পরিণত করা হচ্ছে, যার ফলেই এমন অপমানজনক ও বিপজ্জনক ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার উপরেই বর্তায়। যদিও শাসক পক্ষের তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
টিটিডি কর্তৃপক্ষের আশ্বাস (Tirupati)
তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ, সিসিটিভি নজরদারি আরও শক্তিশালী করা, প্রবেশপথে কড়াকড়ি তল্লাশি, সন্দেহজনক আচরণে দ্রুত পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের দাবি, ভক্তদের নিরাপত্তা ও মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
ভক্তদের উদ্বেগ ও বড় প্রশ্ন
তিরুপতির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধর্মীয় স্থানে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও বিপদ ঘটতে পারত না তো? নিরাপত্তার গাফিলতি কি শুধুই দুর্ঘটনা, না কি ব্যবস্থাগত দুর্বলতা? এই ঘটনা যেন সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে প্রশাসনের কাছে। শুধু তিরুপতিই নয়, দেশের সমস্ত স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা যে এখন সময়ের দাবি, তা বলাই বাহুল্য।



