Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Pakistan)। শনিবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ শহরের ব্যস্ততম এলাকা মহম্মদ জিন্না রোডের গুল প্লাজা শপিং মলে আচমকাই আগুন লেগে যায়। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। পুরু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। এই ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আতঙ্কে এলাকা ছাড়া বাসিন্দারা (Pakistan)
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে শপিং মলটি। আগুনের সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা মহম্মদ জিন্না রোড অঞ্চল। বহু দূর থেকেই সেই ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যে আশপাশের বাড়ির বহু মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
দোকান বন্ধের সময়েই ঘটে বিপত্তি (Pakistan)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আগুন লাগার সময় মলের বেশিরভাগ দোকানদার দোকান বন্ধ করছিলেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। স্থানীয় দোকানদার মহম্মদ আহসান জানান, “৫ নম্বর গেটে আগুন লাগে। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কাজ করেনি। এরপর খুব দ্রুত আগুন গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
দমকলের লড়াই, উঠছে দেরির অভিযোগ (Pakistan)
খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুল্যান্স। তবে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করেছে। যদিও দমকল বিভাগ এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তাঁদের বক্তব্য, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে।

কী কারণে আগুন, এখনও অজানা (Pakistan)
এই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, শপিং মলে থাকা পোশাক, গৃহসজ্জার সামগ্রী, খেলনা এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মতো দাহ্য বস্তুই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা (Pakistan)
প্রশাসনের একাংশের মতে, এই আগুন যদি দিনের বেলায় লাগত, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত। রাতের সময় বেশ কিছু দোকান বন্ধ থাকায় প্রাণহানি তুলনামূলক কম হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Bengali Women Death: সিকিম ঘুরতে গিয়ে বাঙালি মহিলার মৃত্যু, শ্বাসকষ্ট নাকি অন্য কারণ?
করাচিতে বারবার অগ্নিকাণ্ড
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, করাচিতে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। সম্প্রতি করাচি বন্দরে আগুন লেগে ব্যাটারি ভর্তি একাধিক কন্টেনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বহু পুরনো ভবনেই নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জাম। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, জরুরি নির্গমন পথের সংকট এবং কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকাই বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ।



