Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার থেকে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন–এর শুনানি পর্ব (Micro Observer Training)। সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন এক নতুন স্তরের নজরদারির ব্যবস্থা করেছে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ। তারই অঙ্গ হিসেবে আজ সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে কলকাতার নজরুল মঞ্চে মাইক্রো অবজারভারদের নিয়ে বৈঠক ও প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণই ঠিক করে দেবে, SIR শুনানি পর্বে তাঁদের দায়িত্ব ও ভূমিকা কী হবে।
নজরুল মঞ্চে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (Micro Observer Training)
আজকের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত থাকছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, অতিরিক্ত CEO, স্পেশাল অবজারভাররা। পাশাপাশি থাকবেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ এই প্রতিনিধি দল বাংলায় এসেছেন মূলত হিয়ারিং সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে এবং মাইক্রো অবজারভারদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার জন্য। এই বিশেষ টিমে রয়েছেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়ালও।
ভরসা মাইক্রো অবজারভার (Micro Observer Training)
SIR শুনানি পর্বে এখনও পর্যন্ত ওয়েবকাস্টিং বা ক্যামেরার অধীনে মনিটরিংয়ের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিরোধী দলগুলির তরফে হিয়ারিং চলাকালীন ওয়েবকাস্টিংয়ের দাবি উঠলেও কমিশন সূত্রে তেমন কোনও নির্দেশ মেলেনি। ফলে পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব গিয়ে পড়ছে মাইক্রো অবজারভারদের ওপর। কার্যত তাঁরা-ই হবেন এই প্রক্রিয়ার ‘চোখ ও কান’।
ভোটের বাইরেও মাইক্রো অবজারভার (Micro Observer Training)
সাধারণত নির্বাচনের সময় মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হলেও এবার SIR শুনানিতেও তাঁদের যুক্ত করা হয়েছে। CEO দফতর ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। CEO-কেই এই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৪,৬০০ জন মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনকে একটিভ ডিউটিতে রাখা হবে এবং প্রায় ১,০০০ জন থাকবেন রিজার্ভে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪,৫০০ জন মাইক্রো অবজারভার পুরো SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
কারা হচ্ছেন মাইক্রো অবজারভার (Micro Observer Training)
মেট্রো রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, জীবনবিমা নিগম (LIC), কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি, শুল্ক দফতর-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্য প্রশাসনের বাইরে থাকা কেন্দ্রীয় কর্মীদের মাধ্যমেই নজরদারি আরও নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোন কোন জেলার দায়িত্ব (Micro Observer Training)
নজরুল মঞ্চে যে মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ হবে, তাঁরা মূলত মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান এই জেলাগুলির দায়িত্বে থাকবেন।
দুই পর্বে প্রশিক্ষণ (Micro Observer Training)
এই প্রশিক্ষণ হবে মোট দুই পর্বে, প্রথম পর্ব: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট, দ্বিতীয় পর্ব: দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট, এই দুই পর্বেই মাইক্রো অবজারভারদের বিস্তারিতভাবে তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: Gulmarg Snowfall: গুলমার্গে মরশুমের প্রথম তুষারপাত, শীতের আমেজে নামল পর্যটকদের ঢল
কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে
আজকের প্রশিক্ষণে মূলত বোঝানো হবে, SIR-এর শুনানি পর্বে মাইক্রো অবজারভারদের আদতে কী কাজ করতে হবে এবং কোন দায়িত্বগুলি তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে।
- SIR শুনানি চলাকালীন ইআরও ও এইআরও-দের সঙ্গে মাইক্রো অবজারভারদের উপস্থিত থাকতে হবে।
- প্রয়োজনে বিএলও (BLO)–রাও সেখানে থাকতে পারেন, তবে পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব মাইক্রো অবজারভারদের।
- শুনানি প্রক্রিয়া চলাকালীন নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, নাম তালিকাভুক্ত করার ফর্ম এবং নাম সংশোধনের ফর্ম এই সব নথির যাচাই করবেন তাঁরা।
- বিএলও-দের মাধ্যমে ডিজিটাইজ করা এনুমারেশন ফর্মের যাবতীয় নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন মাইক্রো অবজারভাররা।



