Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাইগ্রেন এমন এক ধরনের মাথাব্যথা (Migraine), যা কেবল সাধারণ অস্বস্তি নয়—বরং এক ভয়ানক যন্ত্রণার নাম। হঠাৎ করেই কপালের একপাশে বা পুরো মাথাজুড়ে ধুকপুক করা ব্যথা শুরু হয়, সঙ্গে থাকে আলো-শব্দের প্রতি অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা, বমি বমি ভাব, এমনকি বমিও হতে পারে। যাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা জানেন এই ব্যথা কতটা অসহ্য। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে টানা কয়েক দিনও মাইগ্রেনের ব্যথা থাকতে পারে।
আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন… (Migraine)
এত গবেষণা সত্ত্বেও আজও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কেন মাইগ্রেন হয়। কখনও হরমোনের তারতম্য, কখনও মানসিক চাপ, কখনও বা ঘুমের অনিয়ম, আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার বা পরিবেশও মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। আর যেহেতু স্থায়ী চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই মানুষ ভরসা করেন ব্যথানাশক ওষুধের ওপর। কিন্তু নিয়মিত ওষুধ খেলে শরীরে নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই অনেকেই এখন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন, যা কোনো ওষুধ ছাড়াই মাইগ্রেনের যন্ত্রণা অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।
আদা চা বা কাঁচা আদার রস (Migraine)
আদার ভেষজ গুণ সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেও এটি দারুণ উপকারী। আদার প্রদাহনাশক উপাদান মাথার ভেতরের রক্তনালীর ফোলা ও প্রদাহ কমায়, ফলে ব্যথা উপশম হয়। এছাড়া মাইগ্রেনের সঙ্গে যে বমি বমি ভাব থাকে, সেটিও নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যথা শুরু হওয়ার আভাস পেলেই এক টুকরো কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। অথবা আদা কুচি দিয়ে গরম চা বানিয়ে ধীরে ধীরে পান করলে তাত্ক্ষণিক আরাম মিলবে।
ঠান্ডা বা গরম সেঁক (Migraine)
মাইগ্রেনের সময় অনেকেই ঠান্ডা সেঁকে আরাম পান, আবার কারও ক্ষেত্রে গরম সেঁক বেশি কার্যকর হয়।
ঠান্ডা সেঁক: একটি পরিষ্কার তোয়ালে বরফে মুড়ে কপালে, মাথার দুই পাশে বা ঘাড়ের পিছনে চেপে ধরুন। ১৫-২০ মিনিট রাখলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে ব্যথা কমে যায়।
গরম সেঁক: যাঁদের মাথা ভারী হয়ে আসে বা ঘাড়-কাঁধ শক্ত হয়ে যায়, তাঁরা হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম জলে ভেজানো তোয়ালে ঘাড়ে বা কাঁধে রাখতে পারেন। এটি পেশী শিথিল করে মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
অন্ধকার ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম
মাইগ্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আলো ও শব্দ অসহ্য হয়ে ওঠা। অনেক সময় শব্দ বা উজ্জ্বল আলোই ব্যথার ট্রিগার হয়ে দাঁড়ায়। তাই— ব্যথা শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে একটি অন্ধকার, শান্ত ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ুন। চোখ বন্ধ করে ২০-৩০ মিনিট বিশ্রাম নিন। চাইলে চোখে আই-মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এটি স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে, এবং ব্যথা ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে।
পেপারমিন্ট বা ল্যাভেন্ডার তেলের ব্যবহার
অ্যারোমাথেরাপি মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকর হতে পারে। পেপারমিন্ট তেল: পেপারমিন্ট তেলে থাকা মেন্থল রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্নায়ুকে শীতল করে। কয়েক ফোঁটা তেল আঙুলে নিয়ে কপালে বা মাথার পাশে আলতোভাবে মালিশ করুন। ল্যাভেন্ডার তেল: এর গন্ধ মস্তিষ্ককে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায়। তেল সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে রুমাল বা তুলোয় কয়েক ফোঁটা নিয়ে গন্ধ শুকতে পারেন।
পর্যাপ্ত জল পান করা

ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলশূন্যতা মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক সময় আমরা টেরই পাই না যে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়েছে। তাই মাথা যন্ত্রণার শুরুতেই ধীরে ধীরে জল পান করুন। একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার জল খেলে দ্রুত আরাম পাবেন। চাইলে ডাবের জল বা হালকা লেবু মেশানো পানি পান করতে পারেন।
আরও পড়ুন: Ballygunge: আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি?
মাইগ্রেনের যন্ত্রণা সাময়িক হলেও অত্যন্ত কষ্টদায়ক। প্রতিবার ওষুধের ওপর নির্ভর না করে, এই ঘরোয়া টোটকাগুলো প্রয়োগ করলে অনেক ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে—যদি মাইগ্রেন খুব ঘনঘন হয় বা ব্যথা কয়েক দিন স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


